চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের ফকির বাজার এলাকায় এক কথিত চিকিৎসকের দেওয়া ইনজেকশনের পর কয়েকটি শিশুর হাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অ্যালার্জির চিকিৎসার নামে ইনজেকশন দেওয়ার পর শিশুদের ইনজেকশনের স্থান শুকিয়ে যেতে শুরু করে এবং পরবর্তী সময়ে হাতের কার্যক্ষমতা কমে যায়।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ইউএনওর নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ব্যক্তি মো. রিয়াজুল হক ফকির বাজার এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়দের দাবি, ঢাকার এক চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতার কারণে এলাকায় তিনি চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। তবে তাঁর কোনো স্বীকৃত চিকিৎসা ডিগ্রি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে অভিযোগকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন।

সরেজমিন ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের শ্রীকালিয়া গ্রামের গৃহবধূ রোকসানা বেগম, তাঁর ১৮ মাস বয়সী শিশু সন্তান আব্দুল আহাদ, সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিনসহ কয়েকজন শিশু ওই ব্যক্তির কাছে অ্যালার্জির চিকিৎসা নিতে যায়।

রোকসানা বেগম বলেন, ‘প্রায় তিন মাস আগে অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিলে ফকির বাজারে রিয়াজুল হকের কাছে যাই। তিনি আমাকে ও আমার শিশুকে দুটি করে ইনজেকশন দেন এবং ওষুধ খেতে বলেন। ওষুধ খাওয়ার পর হাতে ব্যথা শুরু হয় এবং ইনজেকশন দেওয়ার স্থান শুকিয়ে যেতে থাকে। পরে ঢাকার চিকিৎসকদের কাছে গেলে তাঁরা জানান, হাতের অবস্থা আগের মতো নাও হতে পারে।’

একই অভিযোগ করেন শিশু আশরাফুল ইসলামের মা মোহছেনা বেগম, ইয়াছিনের মা তাহমিনা বেগম ও আরেক শিশুর অভিভাবক মো. হাসান। তাঁদের দাবি, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষায় শিশুদের হাতে ইনফেকশনের বিষয়টি ধরা পড়ে এবং হাতের শক্তি কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, স্বীকৃত চিকিৎসা সনদ না থাকা সত্ত্বেও রিয়াজুল হক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চিকিৎসা দিয়ে আসছেন।

গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান পাটওয়ারী বলেন, ‘রিয়াজুল হকের চিকিৎসার পর কয়েকজন অসুস্থ হওয়ার বিষয়টি সত্য। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।’

অভিযোগের বিষয়ে মো. রিয়াজুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইনফেকশনের কারণে ভুক্তভোগী শিশুদের হাতের রগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ওই স্থানের মাংস ক্ষয় হয়েছে। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি প্রাথমিকভাবে সত্যতা পেয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘অপচিকিৎসার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’