রাজধানীর খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ গোড়ান এলাকায় এক তরুণীর মৃত্যুকে প্রথমে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হলেও তদন্তে সেটি হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে খিলগাঁও থানা পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সাইফুল ইসলামকে (২১) গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (১১ জুলাই) মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ এসব তথ্য জানান।

তিনি বলন, গত ১০ জুলাই সন্ধ্যায় খিলগাঁও থানাধীন দক্ষিণ গোড়ানের হাজী মসজিদের সামনে একটি বাসা থেকে সানজিদা আক্তার মারিয়াকে (১৮) গলায় পাটের সুতলি পেঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হলেও তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই চান মিয়া ১১ জুলাই খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মতিঝিল বিভাগের এই ডিসি আরও বলেন, মামলার পরপরই পুলিশ তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে নিহতের স্বামী সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, সাইফুলের বাবা-মাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

পুলিশ জানায়, প্রায় এক বছর আগে সানজিদা আক্তার মারিয়া ও সাইফুল ইসলামের বিয়ে হয়। মারিয়া লালমাটিয়া মহিলা কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি টিউশনি করে সংসারের খরচে সহায়তা করতেন।

গ্রেফতার হওয়া আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে খিলগাঁও থানা পুলিশ।

টিটি/এসএনআর