শেরপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশ-ইন ঠেকাতে রাত জেগে পাহারা বসিয়েছে সীমান্তবর্তী এলাকার লোকজন।

স্থানীয়রা জানায়, জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার মেঘালয় রাজ্য সীমান্তের গোমরা গ্রামবাসী পৃথক কয়েকটি গ্রুপে ১৫ থেকে ২০ জনের একেকটি দল জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি বসে এই পাহারা বসিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) গভীর রাতে এই সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ চারজনকে পুশ-ইনের চেষ্টা চালায়। কিন্তু বিজিবি সদস্যরা সেই পুশ-ইন ব্যর্থ করেন। গ্রামবাসীদের ধারণা বিএসএফ রাতের আঁধারে আবারো পুশ-ইনের চেষ্টা করবে। তাই তারা রাতভর পাহারা দিচ্ছেন।

আরও পড়ুন

সিলেট সীমান্তে সাতজনকে পুশ-ইনের চেষ্টা প্রতিহত করলো বিজিবি

গোমরা গ্রামের সমাজসেবক আনোয়ার হোসেন জানান, তাদের কাছে খবর আছে সীমান্তের ওপারে প্রায় দুই শতাধিক মানুষকে এনে রেখেছে বিএসএফ। তাদেরকে এই সীমান্ত দিয়ে যেকোনো সময় পুশ-ইন করতে পারে। তাই তারা দিনব্যাপী এবং রাত জেগে এই সীমান্ত এলাকায় পাহারা বসিয়েছে। তাদের পাশাপাশি স্থানীয় বিজিবি সদস্যরাও সতর্ক রয়েছে বলে তিনি জানান।

আরেক যুবক আব্দুল কাদের মিয়া বলেন, আমাদের গ্রামের লোকজন বিভিন্ন সবজি ক্ষেতে রাতে অবস্থান নেয়। যেন বিএসএফ কোনোভাবেই তাদের দেশের লোকজনকে অবৈধভাবে ঠেলে আমাদের এপারে না পাঠাতে পারে। আমাদের দেশের জন্য আমরা বিজিবির সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি।

আরও পড়ুন

জামালপুর সীমান্ত / রাতে পুশ-ইন ঠেকাতে বিজিবির একমাত্র ভরসা টর্চলাইট

ময়মনসিংহ ৩৯ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ জানান, এমনিতেই দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান দমনে দিনরাত হাই ভলিউম কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয় বিজিবিকে। সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচার রোধ তাদের নিয়মিত কাজ। সেখানে এখন যোগ হয়েছে পুশ-ইন প্রতিহত করা। এখন পর্যন্ত শেরপুর সীমান্ত দিয়ে কোনো পুশ-ইনের ঘটনা ঘটেনি। সম্ভাব্য পুশ-ইন ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।

মো. নাঈম ইসলাম/এফএ/এএসএম