দেশের তৈরি পোশাক শিল্পে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতকরণ ও কর্মসংস্থান প্রসারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘অ্যাসেট’ প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে কর্মশালা ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের এক্সিবিশন হলে ‘বিজিএমইএ-ইবিটি বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা কর্মশালা ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠান’ শীর্ষক এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া। এতে সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিজিএমইএ এ তথ্য জানিয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর বাস্তবায়িত ‘অ্যাসেট’ প্রকল্পের আওতায় পোশাক শিল্পে ‘এন্টারপ্রাইজ বেইজড ট্রেনিং’ (ইবিটি) পরিচালনা করছে বিজিএমইএ। শিল্পের চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

বিজিএমইএ এবং অ্যাসেট প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এন্টারপ্রাইজ বেইজড ট্রেনিং (ইবিটি) কর্মসূচির আওতায় এ পর্যন্ত ৩টি সাইকেলে মোট ১৯৩টি ব্যাচের মাধ্যমে ৪,৬৩২ জন প্রশিক্ষণার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উক্ত ২য় এবং ৩য় সাইকেলের ৯৭ ব্যাচের ২৩২৮ জনকে অনুষ্ঠানে সনদ প্রদান করা হয়। বর্তমানে ৪র্থ সাইকেলের ৯৬ ব্যাচ চলমান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব জনাব মো. দাউদ মিয়া, এনডিসি বলেন, জাতীয় অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে দক্ষ মানবসম্পদের বিকল্প নেই, আর এ ক্ষেত্রে বিজিএমইএ ও অ্যাসেট প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগ পোশাক খাতের উৎপাদনশীলতা ও শ্রমশক্তি বৃদ্ধিতে চমৎকার কাজ করছে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও দক্ষতা উন্নয়নে সরকারের নতুন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। শিল্প ও একাডেমিয়ার সম্পর্ক সুদৃঢ় করা, চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়তে এসব প্রকল্পে বিজিএমইএ’কে মতামত দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তম কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাত, পোশাকখাতকে ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এখাতে কর্মীদের দক্ষতা লেভেল ৩ ও ৪-এ উন্নীত করা অত্যাবশ্যকীয়।

বিজিএমইএ সভাপতি জনাব মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতা ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সাথে টিকতে পোশাক খাতকে আরও দক্ষ ও আধুনিক করতে হবে। কারখানায় কর্মমুখী দক্ষতা বাড়াতে এন্টারপ্রাইজ বেইজড ট্রেনিং মডেলটি সফল প্রমাণিত হয়েছে। অ্যাসেট প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গঠনে সরকারের সহায়তার জন্য বিজিএমইএ কৃতজ্ঞ। তিনি আরও বলেন, বিজিএমইএ এর বর্তমান পর্ষদ শুধু রপ্তানির পরিমাণ বাড়াতে নয়, বরং দক্ষ কর্মী গড়ে তুলে পণ্যের মূল্য সংযোজনে বিশ্বাসী। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে কাজ বিজিএমইএ করছে, উপযুক্ত নীতি-সহায়তা পেলে তা আরও বেগবান হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন অনুবিভাগ) সামসুর রহমান খান, অ্যাসেট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মীর জাহিদ হাসান, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি) এর প্রো-উপাচার্য প্রফেসর ড. প্রকৌশলী আইয়ুব নবী খান।

এছাড়াও বিজিএমইএ এর পরিচালক নাফিস- উদ- দৌলা, বিজিএমইএ এর স্কিল ডেভেলপমেন্ট সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন ভুঁইয়া এবং স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম এর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিজিএমইএ’র স্কিল ডেভলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন ভুঁইয়া। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন অনুবিভাগ) সামসুর রহমান খান, অ্যাসেট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মীর জাহিদ হাসান, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি) এর প্রো-উপাচার্য প্রফেসর ড. প্রকৌশলী আইয়ুব নবী খান।

ইএইচটি/এমএএইচ/