ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর শহর বান্দার আব্বাস ও সিরিকে বিকট বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে এলাকা। শুক্রবার রাতে টানা সপ্তম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।​মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) তথ্যানুযায়ী, ইরানের ওপর এই বিমান অভিযানের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। গত কয়েক দিনে ইরানের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেতু, বন্দর ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ইরানের নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টার জবাবেই ওয়াশিংটন এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা গেছে।এদিকে, পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে শুক্রবার। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে অনুমতি ছাড়া অতিক্রম করার সময় থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে আইআরজিসি (IRGC) সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। এর আগে ইরান দাবি করেছিল, সিরিয়ার আল-তানফে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে তারাও হামলা চালিয়েছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ওই হামলায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি।সংঘাতের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েলে আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহের জন্য অতিরিক্ত বিমান পাঠানোর পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক বক্তব্যে দাবি করেছেন, ইরানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং এর ফলাফল খুব দ্রুত দৃশ্যমান হবে।​উল্লেখ্য, গত জুনে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা চুক্তি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই সংঘাত নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান এই উত্তেজনা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অস্থিরতার শঙ্কা তৈরি করেছে।