টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে দেখা দেওয়া বন্যা পরিস্থিতি গতকাল রোববার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে উত্তর-পূর্বে অবনতি হয়েছে। যেসব জায়গায় অবনতি হয়েছে, সেখানে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। আর যেসব জায়গায় পানি নামতে শুরু করেছে বা নেমে গেছে, সেসব এলাকায় পানিবাহিত ও ঠান্ডাজনিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। রাস্তাঘাট ভেঙে যাওয়ায় অনেকে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালেও যেতে পারছে না।

বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় গতকাল তাদের দৈনিক প্রতিবেদনে বলেছে, দেশের ৭ জেলার ৫৯ উপজেলার ৩৬৮টি ইউনিয়ন ও ১২টি পৌরসভা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। আর অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসে গতকাল দুপুর পর্যন্ত সারা দেশে ৫১ জন মারা গেছে, আহত হয়েছে ৩৯ জন।

মন্ত্রণালয় বলছে, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ জেলা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে।

তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ১১ জেলা বন্যাকবলিত উল্লেখ করে জানিয়েছে, ওই সব জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর। গতকাল বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কিছু কিছু এলাকায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। আবার কিছু এলাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে। দুর্গত এলাকায় ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও নিউমোনিয়া দেখা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন মো. জাহাঙ্গীর আলম। তবে তিনি বলেন, দুর্গত বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলায় বিভিন্ন মেডিকেল টিম কাজ করছে এবং জরুরি ওষুধপত্র সরবরাহ করা হচ্ছে। বাঁশখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা সচল রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সাতকানিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় সেখানে চিকিৎসাব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে উপজেলার ছনুয়া, শেখারখীল, পূর্ব পুইছড়ি, পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড, সরল ইউনিয়ন মিনজিতলা বৈলছড়ি, কাথারিয়া, শীলকূপ, গণ্ডামারা, বাহারছড়া ও খানখানাবদ।

বন্যার কারণে পুরো উপজেলায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট চলছে। এতে রোগবালাই বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা করছেন অনেকেই।

সামিয়ারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. মুজিবুর রহমান বলেন, বন্যার পানিতে গভীর নলকূপটি ডুবে থাকায় বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যাচ্ছে না। বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে কোনোরকমে রান্নাবান্নাসহ অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। যাদের বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করার সুযোগ নেই, তাদের অবস্থা খুবই খারাপ। ঘরে ঘরে রোগবালাই দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়া চন্দনাইশে পানিবন্দী মানুষের মধ্যে ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, পেটের ব্যথাসহ পানিবাহিত ও ঠান্ডাজনিত রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সাপের উপদ্রব এবং সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা। উপজেলার ৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক ডুবে গেছে।

গতকাল চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে নতুন করে অর্ধশতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছে। ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১১ জনই সাপে কাটা রোগী। বাকিরা সর্দি-কাশি, তীব্র শ্বাসকষ্ট, পেটের ব্যথা ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসেছে।

সাতবাড়ীয়া এলাকার বাসিন্দা আফরোজা সুলতানা বলেন, চারদিকে শুধু পানি আর পানি। রাস্তাঘাট সব ডুবে গেছে। ঘরে মানুষ অসুস্থ হলেও হাসপাতালে নেওয়ার মতো কোনো উপায় নেই। নৌকা ছাড়া চলাচলের কোনো মাধ্যম নেই, আর প্রয়োজনের সময় নৌকা পাওয়াও ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশ্মি চাকমা জানান, হাসপাতালে নতুন করে অর্ধশতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছে। ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১১ জনই সাপে কাটা রোগী। বাকিরা সর্দি-কাশি, তীব্র শ্বাসকষ্ট, পেটের ব্যথা ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসেছে।

টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে রেললাইন ডুবে যাওয়ায় পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে আবার ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। গতকাল বেলা সোয়া ২টায় চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়।

এর আগে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনটি বেলা ১১টা ৫৪ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশনে পৌঁছায় বলে জানায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফারহান মাহমুদ জানান, চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে পৌঁছার পর বেলা সোয়া ২টার দিকে পুনরায় ট্রেনটি কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

৭ জুলাই টানা বৃষ্টিপাতে চট্টগ্রাম নগরের নগরের ষোলশহর রেলস্টেশন ও জানালীহাটের মাঝখানের রেললাইন ডুবে যাওয়ায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে জেলার চকরিয়া ও মাতামুহুরীতে পানি কমার পর বন্যার্তদের মধ্যে পানিবাহিত নানা রোগের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের গোবিন্দুপর গ্রামের গৃহিণী সালমা খাতুন (৩৩) জানান, তাঁর বাড়ি ডুবে গিয়েছিল। পানি নামতে শুরু হলে দুদিন পর তাঁর টিনশেড ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে হাতে-পায়ে চুলকানি দেখা দিয়েছে।

সালমার মতো চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় বন্যাকবলিত মানুষ পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেকে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে গেছে। আবার অনেকেই ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনছে।

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মিসকাত উদ্দীন আহমদ বলেন, বন্যার পানি নেমে গেছে, পানিবাহিত রোগ বাড়বে। চুলকানি ও চর্মরোগও দেখা দেবে। এখন বন্যার পানির কারণে লোকজন হাসপাতালে আসতে পারছে না। বন্যার পানি নেমে গেলে রোগীর চাপ বাড়বে। তবে হাসপাতালে কিছু ডায়রিয়া রোগী ভর্তি আছে।

এদিকে চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের খোজাখালী জলদাসপাড়ায় বন্যার পানিতে ডুবে সজিব জলদাশ (১২) নামের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সে ওই গ্রামের তুফান জলদাসের ছেলে।

বান্দরবানের প্রধান নদী সাঙ্গুর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি মাতামুহুরী নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল এখনো পানির নিচে রয়েছে। এতে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে এবং দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

অতিবৃষ্টির কারণে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি জমে থাকায় জেলার সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। দূরপাল্লার বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তবে ঝুঁকি নিয়ে কিছু ছোট যানবাহন সীমিত পরিসরে চলাচল করছে।

জেলা সদর ছাড়াও লামা, আলীকদম, রোয়াংছড়ি, নাইক্ষ্যংছড়ি, থানচি ও রুমা উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। পানিবন্দী পরিবারগুলোর অনেকের খাদ্যসামগ্রী শেষ হয়ে এসেছে। বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনা খাবার, শিশুখাদ্য ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানান, জেলার ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার ২৫০ জন আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়মিত শুকনা খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, বরকল, বড় হরিণা এবং বিলাইছড়ির ফারুয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে হাজারো মানুষ। সবচেয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে বিলাইছড়ি উপজেলার দূরবর্তী ফারুয়া ইউনিয়ন। দুর্গম এই অঞ্চলে বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে ত্রাণ পৌঁছাতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীদের। রাইংখং নদীর তীব্র স্রোত এবং নৌপথে উপড়ে পড়া বড় বড় গাছের গুঁড়ি ভেসে আসার কারণে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নৌকা নিয়ে ওপরে ওঠা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী নিয়ে সেখানে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

জেলা সিভিল সার্জন নুয়েন খীসা বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি দুর্গত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার। একাধিক মেডিকেল টিম কাজ করছে। এখনো বড় ধরনের কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব নেই।’

এদিকে রাঙামাটি-রাজস্থলী, খাগড়াছড়ির দীঘিনালা-বাঘাইছড়ি সড়কে পাহাড়ধস ও কালভার্ট ডুবে যাওয়ায় সড়কটি এখনো স্বাভাবিক করা যায়নি। এ ছাড়া রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধসে যাওয়ায় দুই জেলার মধ্যে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, ‘প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও সড়ক সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। সড়কের ওপর যেখানে-সেখানে পাহাড়ধস হচ্ছে। সে মাটি সরিয়ে যান চলাচল সচল রাখার চেষ্টা করছি আমরা। বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কটি সচল হতে সময় লাগবে।’

সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানোর বিকল্প উপায় খোঁজা হচ্ছে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সব কটি সরকারি বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।

সুনামগঞ্জে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে কুশিয়ারা নদীর পানি। প্লাবিত হয়েছে নদীতীরবর্তী তিন ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা। জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ-রৌয়াইল সড়ক ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ।

এ ছাড়া পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, মধ্যনগর উপজেলার নিম্নাঞ্চল। পানিতে তলিয়েছে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের একাধিক জায়গা।

গতকাল দুপুরে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের আনোয়ারপুর থেকে বিশ্বম্ভরপুরমুখী আনোয়ারপুর সেতুসংলগ্ন অংশ, শক্তিয়ারখলা বাজার এলাকা ও দুর্গাপুর অংশ অনেকটা জলমগ্ন। ওই অবস্থায় সড়কে দাঁড়িয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার উমরপুর গ্রামের মো. আতাবুর রহমান বলেন, ‘এই রাস্তা পানিতে ডুইব্যা যাওয়ায় চলাচল করতে কষ্ট হইতাছে। পানি বাড়তে থাকলে যাতায়াত বন্ধ হইয়া যাইব। কামকাজ করা যাইত না। মানুষের দুর্ভোগ বাড়ব।’

বন্যার শঙ্কায় জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে। পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। হাওরে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।

সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার জানান, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি হচ্ছে। সুনামগঞ্জেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। বৃষ্টি হলে পানি বাড়বে। এতে জেলায় স্বল্প মেয়াদে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

মৌলভীবাজারে কমছে নদ-নদীর পানি, উন্নতি হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতির। তবে পানি কমার সঙ্গে দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ; বিশেষ করে ডায়রিয়া, সর্দি-জ্বর ও এলার্জি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সব বয়সী মানুষেরা।

রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের বন্যায় আক্রান্ত জুয়েল মিয়া বলেন, দুই দিন পানির নিচে থাকার পর শনিবার রাতে পানি কমেছে। তবে পানি কমার পর নতুন করে রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিবারের কারও জ্বর উঠেছে আবার কারও ডায়রিয়া হচ্ছে।’

মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন মো. মামুনুর রহমান বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত ওষুধ মজুত করা আছে; যাতে সবাই পানিবাহিত রোগের চিকিৎসা নিতে পারে।

হবিগঞ্জে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। পানি কমায় এরই মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রসহ পাড়া-প্রতিবেশীদের বাড়িঘরে আশ্রয় নেওয়া মানুষ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে। বন্যার পানি কমলেও কমেনি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ। রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়িতে কাদা থাকায় অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বানভাসিদের।

হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক জি এম সরফরাজ বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষয়ক্ষতির নিরূপণ এখনো শুরু হয়নি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া হবে।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা]