বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কসের স্বত্বাধিকারী মো. খায়রুল বাশার বাহারের ৩৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করেছে সিআইডি। উন্নত দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার জন্য স্বল্প খরচে দ্রুত সময়ের মধ্যে পাঠানোর প্রলোভনে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে খায়রুল বাশার বাহারের বিরুদ্ধে।
রোববার (১২ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।
আরও পড়ুন
আপিল বিভাগের রায় / ২৫ বছর পূরণ হওয়ার আগে পদত্যাগ করলে পেনশন পাবেন না সরকারি চাকরিজীবীরা
তিনি বলেন, বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কসের স্বত্বাধিকারী মো. খায়রুল বাশার বাহার ও তার সহযোগীরা সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের আমেরিকা, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার জন্য স্বল্প খরচে দ্রুত সময়ের মধ্যে পাঠানোর চটকদার বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আকৃষ্ট করেন। এরপর তাদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অনুসন্ধানকালে প্রাথমিক সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর তার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়। ওই মামলায় খায়রুল বাশার বাহারকে ২০২৫ সালের ১৪ জুলাই ধানমন্ডি থেকে গ্রেফতার করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।
প্রাথমিক তদন্তের তথ্য জানিয়ে জসীম উদ্দিন খান বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অপরাধলব্ধ অর্থ দিয়ে বড় স্ত্রীর নামে রাজধানীর ভাটারা এলাকায় একটি ফ্ল্যাট কেনেন। এছাড়া ২য় স্ত্রী কানিজ ফাতেমা প্রকাশ ডোনার নামে শেলটেক বিথীকা প্রকল্পে একটি ফ্ল্যাট ও নিজ নামে রাজাবাজার এলাকায় ২টি ফ্ল্যাট কেনেন। পাশাপাশি রাজধানীর আজিজ সড়কে জি+৭ তলা ও জি+৬ তলা বিশিষ্ট ২টি বাড়িসহ তার নিজ নামে ও প্রতিষ্ঠানের নামে জমি ক্রয় করেন। যার দলিল মূল্য প্রায় ৩৩ কোটি টাকা। সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত আসামির নামে থাকা স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন।
আরও পড়ুন
হাসিনা ফিরলে তাকে জেলে যেতে হবে: চিফ প্রসিকিউটর
অভিযুক্ত খায়রুল বাশার বাহার নিজেকে একজন শিক্ষাবিদ ও ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেন। তবে এর আড়ালে তিনি বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র গড়ে তোলেন। তাদের সহযোগিতায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। এভাবে তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির সন্ধান করা হচ্ছে বলেও জানান জসীম উদ্দিন খান।
কেআর/কেএসআর








