আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী দেশের অধিকাংশ এলাকায় ১২ থেকে ১৪ জুলাই ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এরপর ১৫ ও ১৬ জুলাই অনেক এলাকায় বৃষ্টিপাতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও অঞ্চলভেদে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এ অবস্থায় আমন বীজতলা ও চারা রোপণ পর্যায়ে কৃষি পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)।

বৃষ্টির সময় করণীয়

ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসযুক্ত এলাকায় নতুন করে বীজতলা তৈরি ও চারা রোপণ আপাতত স্থগিত রাখুন। প্রবল বৃষ্টি ও পানির স্রোতে চারা ভেসে যাওয়া বা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকায় বৃষ্টিপাতের তীব্রতা কমা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

বীজতলা ও এরই মধ্যে রোপণ করা জমির পানি নিষ্কাশনের নালা পরিষ্কার ও সচল রাখুন, যাতে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি দ্রুত বের হয়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন

মাগুরার বাজারে আঁশফল, মৌসুমে বাড়ছে চাহিদা

সদ্য রোপণ করা জমিতে অতিরিক্ত পানি জমলে দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করুন। তবে একবারে সম্পূর্ণ পানি বের না করে জমিতে অল্প পানির স্তর বজায় রাখুন, যেন চারা হেলে পড়া বা ভেসে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।

বীজতলা ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে চারার বয়স ও অবস্থা বিবেচনায় উঁচু ও নিরাপদ স্থানে বিকল্প বীজতলা তৈরি করুন। প্রয়োজনে মাটি তুলে জমির সাধারণ পৃষ্ঠ থেকে ১৫-২০ সেমি উঁচু বেড প্রস্তুত করুন।

ভারী বৃষ্টির আগে বা বৃষ্টির মধ্যে ইউরিয়া ও অন্যান্য সার, কীটনাশক এবং ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করবেন না। এতে সার ধুয়ে যাওয়া এবং বালাইনাশকের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বন্যা বা জলাবদ্ধতার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জন্য স্বল্পমেয়াদি ও স্থানীয় পরিবেশের উপযোগী আমন ধানের জাত নির্বাচন করুন। ভালো মানের, পরিপক্ক ও পূর্ণ দানার বীজ ব্যবহার করুন।

লবণ-পানি পরীক্ষার মাধ্যমে অপুষ্ট ও ভাসমান বীজ বাদ দিয়ে সুস্থ বীজ নির্বাচন করুন। প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদিত ছত্রাকনাশক দিয়ে বীজ শোধনের পর পরিষ্কার পানিতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে এবং ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা জাগ দিয়ে অঙ্কুরিত বীজ বপন করুন।

আরও পড়ুন

মাছ চাষিরা পুকুরের পানির মান বুঝবেন কীভাবে?

বন্যার পূর্বাভাস থাকলে বীজতলাকে অতিরিক্ত বৃষ্টির সরাসরি আঘাত থেকে রক্ষার জন্য অস্থায়ী পলিথিন বা ছাউনির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবে পানি নিষ্কাশন ও বায়ু চলাচল নিশ্চিত করুন এবং বৃষ্টি কমলে ছাউনি সরিয়ে ফেলুন।

বন্যাকবলিত ও দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধ এলাকায় কী করবেন

জমি দীর্ঘদিন পানিতে ডুবে থাকলে ডাপোগ, ভাসমান বা ট্রে-ভিত্তিক বীজতলা ব্যবহার করা যেতে পারে। বিকল্প বীজতলা এমন স্থানে তৈরি করুন, যেখানে বন্যার পানি প্রবেশের আশঙ্কা কম এবং প্রয়োজনীয় পানি নিষ্কাশনের সুযোগ রয়েছে।

বৃষ্টি কমে যাওয়ার পর করণীয়

পানি নেমে যাওয়ার পর বীজতলা ও রোপণ করা জমি ভালোভাবে পরিদর্শন করুন। মৃত, দুর্বল বা ভেসে যাওয়া চারার স্থানে সুস্থ ও সবল চারা দিয়ে দ্রুত গ্যাপ পূর্ণ করুন।

দীর্ঘসময় মেঘাচ্ছন্ন ও আর্দ্র আবহাওয়া বিরাজ করলে বীজতলা ও জমিতে রোগবালাইয়ের লক্ষণ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন। রোগ বা পোকার উপস্থিতি নিশ্চিত না হয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বালাইনাশক প্রয়োগ করবেন না।

বৃষ্টির তীব্রতা কমে জমির অবস্থা স্বাভাবিক হলে এবং পরবর্তী ২-৩ দিন ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা না থাকলে নতুন বীজতলা তৈরি, চারা রোপণ, গ্যাপ ফিলিং ও প্রয়োজনীয় সার ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করুন।

জেলা ও উপজেলা-ভিত্তিক সর্বশেষ আবহাওয়া ও বন্যা সতর্কবার্তা অনুসরণ করে বীজতলা তৈরি, চারা রোপণ এবং অন্যান্য কৃষি কার্যক্রমের সময় নির্ধারণ করুন।

এনএইচ/কেএসআর