বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কসের স্বত্বাধিকারী প্রতারক মো. খায়রুল বাশার বাহার ও তার সহযোগীদের পারস্পরিক যোগসাজশে প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত ৩৩ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রবিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় সিআইডি সদর দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আসামিরা সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের আমেরিকা, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চ শিক্ষার জন্য স্বল্প খরচে দ্রুত সময়ের মধ্যে পাঠানোর বিষয়ে চটকদার বিজ্ঞাপন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অনুসন্ধানকালে প্রাথমিক সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুলশান (ডিএমপি) থানায় মামলা করা হয়।  অভিযুক্ত মো. খায়রুল বাশার বাহারকে মানিলন্ডারিং মামলায় গত বছর ধানমন্ডি থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোর্পদ করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।

মামলা প্রাথমিক তদন্তে জনা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অপরাধলব্ধ অর্থ দিয়ে বড় স্ত্রীর নামে রাজধানীর ভাটারা এলাকায় একটি ফ্ল্যাট, দ্বিতীয় স্ত্রী কানিজ ফাতেমা প্রকাশ ডোনার নামে শেলটেক বিথিকা প্রকল্পে একটি ফ্ল্যাট ও নিজ নামে রাজাবাজার এলাকায় দুটি ফ্ল্যাট এবং রাজধানীর আজিজ সড়কে দুটি বাড়িসহ নিজ নামে ও প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৪৮২.৫ শতাংশ জমি ক্রয় করে। এসব সম্পদের মূল্য প্রায় ৩৩ কোটি টাকা। সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত আসামির নামে থাকা স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেন।

সিআইডি জানিয়েছে, মো. খায়রুল বাশার বাহার নিজেকে শিক্ষাবিদ ও ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচয় দিলেও এর আড়ালে তিনি বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্ক নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সহযোগিতায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত আছে এবং অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিষয়ে সন্ধান অব্যাহত আছে।