চুয়াডাঙ্গা শহরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে সাবেক যুবদল নেতা জাহিন শেখের (৫০) হাত কবজি থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদল ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত বলে ভুক্তভোগী জাহিন দাবি করেছেন। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের হোমিওপ্যাথি কলেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে জাহিনকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। এ ঘটনায় রোববার দুপুর পর্যন্ত মামলা হয়নি। চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার হাটকালুগঞ্জ পুলিশ লাইন এলাকার রজব আলীর ছেলে জাহিন জেলা যুবদলের সহ-ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে দল থেকে তিনি বহিষ্কৃত।
জানা যায়, শনিবার রাত ১০টার পর জাহিনকে ফোন করে হোমিওপ্যাথি কলেজ এলাকায় ডেকে নেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে জাহিন পৌঁছলে জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কিরণ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সিমরান ও আকাশের নেতৃত্বে ১০-১৫ জন তার ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তারা তার বাম হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে। তার পেটে চাকু ঢুকিয়ে দেওয়া হয় এবং বাম পা মারাত্মকভাবে জখম করা হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাজমুস সাকিব জানান, জাহিনের বাম হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বাম পা গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার পেট ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, জাহিন শেখকে কুপিয়ে জখম করাসহ তার বাম হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ঢাকায় তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে ঘটনার পর শনিবার রাতে হাসপাতাল থেকে জাহিন ভিডিও বার্তায় জানান, ‘আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে হামলা করা হয়েছে। এর সঙ্গে কিরণ, সিমরান, আকাশসহ ১৫-২০ জন জড়িত। আমার মৃত্যু হতে পারে-তাই দায়ী ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করলাম।’ এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কিরণ বলেন, হামলার বিষয়টি ফেসবুকে আমি প্রথম পোস্ট করি। এ ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। ঘটনার সময় আমি যেখানে অবস্থান করেছি-তার সিসিটিভি ফুটেজ আমার কাছে আছে। কিরণ আরও বলেন, এ হামলার সঙ্গে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী আকাশ, সিমরান ও অন্যরা জড়িত। এ ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত বলে জাহিন বলেছেন। কিন্তু কীভাবে আমার নাম আসলো, তা আমি জানি না।
এ ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মমিন মালিতা বলেন, জাহিন আমাদের দুঃসময়ে পরীক্ষিত সৈনিক ছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও দেখেছি তার ওপর হামলা হয়েছে। এর সঙ্গে ছাত্রদলের কেউ সম্পৃক্ততা আছে কি না তা আমার জানা নেই। তবে ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী আকাশসহ অনেকে জড়িত বলে জানতে পেরেছি।
জেলা যুবদলের সভাপতি শরিউরজ্জামান সিজার বলেন, জেলা বিএনপির আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে ছাত্রদল নামধারী কয়েকজন এবং ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত যেই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।








