শুধু দাঁত ব্রাশ করলেই হবে না, মানতে হবে সঠিক নিয়ম। আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ ভুলভাবে দাঁত ব্রাশ করে থাকেন। তাই দিনে দুই থেকে তিনবার ব্রাশ করার পরও খুব সহজে দাঁতের ফাঁকে ক্যালকুলাস জমে। প্রদাহ হয় মাড়িতে। 

অনেকে মনে করেন, শক্ত ব্রিসলযুক্ত ব্রাশ দিয়ে সাইড টু সাইড মুভমেন্টে খুব জোরে দাঁত পরিষ্কার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এটি ভুল ধারণা। এতে মাড়ি আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে রক্তপাত হয় এবং দাঁতের শিকড় বের হয়ে যায়। 

অনেকেই আবার ঘন ঘন ব্রাশ করে দাঁতের উপরিভাগের আবরণ ক্ষয় করে ফেলেন, এতে শিরশির অনুভূতির সৃষ্টি হয়। একই ব্রাশ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে ব্রিসলগুলো পুরোনো ও বাঁকা হয়ে যায়। এতে ঠিকমতো দাঁত পরিষ্কার হয় না।

ব্রাশ করার সঠিক সময় না জানার কারণে বেশির ভাগ মানুষই সকালে নাশতার পর দাঁত পরিষ্কার করেন, কিন্তু রাতের খাবারের পরে ব্রাশ করেন না। এ কারণে দীর্ঘক্ষণ দাঁতের ফাঁকে খাদ্যকণা আটকে থেকে প্লাক তৈরি হয়। এতে মুখে দুর্গন্ধ হয়। এটা থেকে পরে দাঁতে ক্যাভিটি হয়ে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। এমনকি দাঁত নড়ে গিয়ে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

  দাঁত ব্রাশ করার সঠিক পদ্ধতি

  • নরম ব্রিসলযুক্ত ব্রাশ ব্যবহার করুন। খেয়াল করবেন, ব্রাশের মাথা যেন ছোট হয়। 

  • ব্রাশটি দাঁত ও মাড়ির সংযোগস্থলে ৪৫ ডিগ্রি কোণে ধরে বৃত্তাকার মোশনে ঘুরিয়ে আলতো হাতে পরিষ্কার করুন। 

  • জোরে ব্রাশ করা এড়িয়ে চলুন।

  • কমপক্ষে দুই মিনিট সময় নিয়ে সকালে নাশতার পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে ব্রাশ করা উচিত।

  • দীর্ঘদিন একই ব্রাশ ব্যবহার না করে তিন মাস পরপর ব্রাশ বদলান।

  • দাঁতের পাশাপাশি আপনার জিবও নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন।

  • বাথরুমে ব্রাশ রাখবেন না। এতে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

  • কোনো অসুস্থতা, বিশেষ করে ভাইরাল রোগ থেকে সেরে ওঠার পর অবশ্যই ব্রাশ বদলে ফেলা জরুরি। কারণ, রোগ সেরে গেলেও জীবাণু লেগে থাকতে পারে ব্রাশে।

ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস, ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল সার্জন; চেম্বার: আলোক ডেন্টাল কেয়ার ইউনিট (আলোক হেলথকেয়ার), মিরপুর ১০, ঢাকা