চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুলিশের সঙ্গে গুলি বিনিময়ের ঘটনায় মোবারক হোসেন ওরফে কালা মোবারকসহ চারজনকে গ্রেপ্তারের দাবি করেছে পুলিশ। গত বুধবার ভোররাতে উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পল্লানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযানে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৩ রাউন্ড গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, শাহনগর পল্লানপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সশস্ত্র ব্যক্তিরা গুলি ছোড়েন। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। গুলি বিনিময়ের ঘটনায় হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ, ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রবিউল আলম খান এবং তিন কনস্টেবল আহত হয়েছেন।

গ্রেপ্তার মোবারক ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর হাছি চৌধুরীর বাড়ির মো. লোকমানের ছেলে। অন্য তিনজন হলেন মোহাম্মদ রাইহান ওরফে রায়হান (৪০), মো. ফরিদ (৫০) ও মো. নাছির (৫২)। তাঁরা সবাই ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকার বাসিন্দা।

অভিযানে ব্রাজিলের তৈরি একটি ৯ মিলিমিটার পিস্তল, ইতালির তৈরি একটি ৭ দশমিক ৬৫ মিলিমিটার পিস্তল, পাকিস্তানের তৈরি একটি রিভলভার এবং একটি দেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৯ মিলিমিটার পিস্তলের ১৮ রাউন্ড ও ৭ দশমিক ৬৫ মিলিমিটার পিস্তলের পাঁচ রাউন্ড গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন, পিস্তলের গুলির তিনটি খোসা এবং শটগানের গুলির চারটি খোসা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোবারকের বিরুদ্ধে ফটিকছড়ি, রাউজান ও চট্টগ্রাম নগরে একাধিক হত্যা ও অস্ত্র মামলা রয়েছে। গত ১৩ জুন রাউজানের পাহাড়তলী এলাকায় মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্তেও তাঁর নাম রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য, ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মোবারককে শনাক্ত করা হয়। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। ওই হত্যা মামলায় এর আগে আফছার, ধামা ইলিয়াস ও দিদার নামের তিনজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

পুলিশ বলছে, পাহাড়তলী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল মোবারকের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৯ মিলিমিটার পিস্তলটি ব্রাজিলের তৈরি টরাস পিস্তল। প্রাথমিকভাবে অস্ত্রটি চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র বলে শনাক্ত করা হয়েছে। অস্ত্রটি কীভাবে পুলিশের হেফাজত থেকে অপরাধীদের হাতে পৌঁছেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, মোবারক চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। পুলিশ তাঁকে বড় সাজ্জাদ বাহিনীর একজন শুটার হিসেবেও চিহ্নিত করেছে।

পুলিশের নথি অনুযায়ী, মোবারকের বিরুদ্ধে ফটিকছড়ির জামাল ও সাদ্দাম হত্যা, রাউজানের মাসুদ হত্যা এবং চট্টগ্রাম নগরের সরোয়ার বাবলা হত্যা মামলায় সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। বড় সাজ্জাদের নির্দেশে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড ও চাঁদাবাজির ঘটনায় মোবারকের উপস্থিতির তথ্য তদন্তে পাওয়া গেছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।