ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাসায়নিক, জৈবিক ও অন্য প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা থাকলেও সবচেয়ে কার্যকর উপায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও জনসচেতনতা বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উপ-প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভিন।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। প্রতিটি নাগরিককে নিয়মিত জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে এগিয়ে আসতে হবে।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর জাগো নিউজ কার্যালয়ে ‘ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
আরও পড়ুন
গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা / ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দায় চাপানো নয়, প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ
ডা. নিশাত পারভিন বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে রাসায়নিক, জৈবিক, জেনেটিক বা প্রজননগত নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। তবে এসবের মধ্যে জনগণের অংশগ্রহণ, জনসচেতনতা ও কার্যকর আইন বাস্তবায়ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ঢাকা শহরে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের প্রধান প্রতিবন্ধকতার মধ্যে অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাবদ্ধতা, নাগরিক অসচেতনতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একই সঙ্গে ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রমাণভিত্তিক (এভিডেন্স-বেজড) কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিয়মিত লার্ভা জরিপ অত্যন্ত প্রয়োজন।
গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা
আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সহযোগী সংস্থার উদ্যোগে বছরে তিনবার এ ধরনের জরিপ হলেও গত বছর থেকে তা নিয়মিত হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, রাসায়নিক কীটনাশকের পাশাপাশি জৈবিক লার্ভিসাইডের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারণ শুধু রাসায়নিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলে দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না।
জনসচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. নিশাত পারভিন বলেন, মানুষের শুধু জ্ঞান থাকলেই হবে না, ইতিবাচক মনোভাব ও বাস্তব চর্চা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি একটি মোবাইল কোর্ট অভিযানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, একটি বাসায় ফুলের পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। জরিমানার এক সপ্তাহ পরে গিয়ে দেখা যায় অন্য একটি পাত্রে আবারও লার্ভা জন্মেছে। অর্থাৎ, মানুষ জানে কোথায় মশা জন্মায়, কিন্তু সেই জ্ঞান বাস্তবে প্রয়োগ করে না।
আরও পড়ুন
বরিশাল বিভাগে আক্রান্তের শীর্ষে পিরোজপুর
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার জীবনচক্রের প্রতিটি ধাপে ব্যবস্থা নিতে হবে জানিয়ে সিটি করপোরেশনের এই কর্মকর্তা বলেন, ডিম ফুটে লার্ভা হওয়ার আগেই পানি জমতে না দেওয়া সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। এরপর লার্ভা ধ্বংসে লার্ভাসাইড, পূর্ণাঙ্গ মশা দমনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষায় লম্বা হাতার পোশাক, মশারিসহ অন্য সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
ডা. নিশাত পারভিন বলেন, ডেঙ্গু হলে অনেকেই শুধু প্যারাসিটামল খেয়ে বাসায় থাকেন এবং শারীরিক অবস্থা গুরুতর না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকের কাছে যান না। এতে রোগীর জটিলতা বেড়ে যায়। তাই দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ ও সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নিয়মিত মশক নিধন, কীটনাশকের মান যাচাই, তদারকি এবং হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের ঠিকানা অনুসারে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানান তিনি।
গোলটেবিল আলোচনার শুরুতে জাগো নিউজের সম্পাদক কে. এম. জিয়াউল হক আমন্ত্রিত অতিথিদের ধন্যবাদ জানিয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে জাগো নিউজে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন তুলে ধরেন।
আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীম, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এপিডেমিওলজিস্ট ও মেডিকেল অফিসার ডা. মো. তারিকুল ইসলাম লিমন এবং বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি প্রতীক ইজাজ।
এছাড়া জাগো নিউজের প্ল্যানিং এডিটর মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল, ডেপুটি এডিটর ড. হারুন রশীদ, প্রধান প্রতিবেদক ইব্রাহীম হুসাইন অভি, অতিরিক্ত বার্তা সম্পাদক আসিফ আজিজসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এমডিএএ/এএসএ/এমএফএ







