বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) ডেঙ্গু প্রতিরোধ, মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শেকৃবির সিন্ডিকেট সদস্য ও সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শেকৃবি ছাত্রদলের সভাপতি আহমদুল কবীর তাপস। সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক বিএম আলমগীর কবীর।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. বেলাল হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক মো. আবুল বাশার ও স্টুডেন্ট অ্যাডভাইজার অধ্যাপক আশাবুল হক। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, “জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধের এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ডেঙ্গুর কারণে যেন আর কোনো প্রাণ অকালে ঝরে না যায়, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। আগামী তিন মাস সবাইকে সচেতনতা নিয়ে কাজ করতে হবে।”

“শেকৃবি ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন থাকলে এখানকার সবাই সুস্থ থাকবে। সর্বোচ্চ পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করে এই বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকার জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে এটাই আমার প্রত্যাশা”, যোগ করেন তিনি।

শেকৃবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বিএম আলমগীর কবীর বলেন, “দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনায় এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।” তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে শেকৃবিকে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যথাযথভাবে সংশ্লিষ্ট মহলে উপস্থাপন করার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে আহমদুল কবীর তাপস বলেন, “বর্তমানে শেকৃবির প্রতিটি হলেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি নিয়মিত মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানান।

তিনি আরো বলেন, “এমপি তুলি নিজেও একটি টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন। তাই শেকৃবির মতো বিশেষায়িত কৃষি ও টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো তিনি অনুধাবন করে সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা আশা করি।”

কর্মসূচির অংশ হিসেবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ব্যানার প্রদর্শন করা হয়। পরে ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়।