গাইবান্ধায় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী অপহরণের দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও তাকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের গাফিলতি ও নিষ্ক্রিয়তার কারণে অপহৃতা কিশোরী বেঁচে আছে কি না, তা-ও জানা সম্ভব হচ্ছে না। গত ৩০ মে সদর থানায় ৫ জনকে আসামি করে মামলা করা হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি।মামলা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের শিমুলতাড়ি গ্রামের শেখ ফাহমিদা আকতার (১৬) স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে পার্শ্ববর্তী গোবিন্দপুর বারিধারা গ্রামের মো. লিখন মিয়া (২৫) তাকে প্রতিনিয়ত উত্ত্যক্ত করত। বিষয়টি লিখনের পরিবারকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পায়নি ফাহমিদার পরিবার।গত ২৮ মে সন্ধ্যায় ফাহমিদা নানার বাড়িতে যাওয়ার পথে সুখানদিঘী-বাদিয়াখালী সড়ক থেকে লিখন ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক অটোবাইকে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনার পর লিখনের পরিবার মেয়েটিকে ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে তারা যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এ ঘটনায় ৩০ মে ফাহমিদার মা রুবি বেগম বাদী হয়ে লিখনসহ ৫ জনের নামে অপহরণ মামলা করেন।ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মামলার পর আসামিরা উল্টো তাদের খুনের হুমকি দিচ্ছে। এমনকি গত ২ জুন রুবি বেগমসহ পরিবারের ৫ জনের নামে একটি পাল্টা মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। রুবি বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দেড় মাস হয়ে গেল, আমার মেয়ের কোনো খোঁজ নেই। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও হতাশায় দিন কাটাচ্ছি।’এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন মুঠোফোনে জানান, ভিকটিম কোনো মোবাইল ফোন ব্যবহার না করায় তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তার সঠিক অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হচ্ছে। তবে ভিকটিমকে দ্রুত উদ্ধার এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।\