প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, “সরকারি গুদামে বর্তমানে ২৩ লাখ ২৬ হাজার ১৬০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।” 

তিনি বলেন “চলতি বোরো সংগ্রহ অভিযানও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে এবং সারাদেশে খোলা বাজারে (ওএমএস) খাদ্যশস্য বিক্রি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জন নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা এসব তথ্য জানান।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জনসহ মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রী দ্রুত ত্রাণসামগ্রী, বিশুদ্ধ খাবার পানি, শিশু খাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপত্তা, স্যানিটেশন, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারীদের বিশেষ সুরক্ষা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন।”

তিনি বলেন, “খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় সরকারি গুদামে বর্তমানে ২৩ লাখ ২৬ হাজার ১৬০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। চলতি বোরো মৌসুমে ১২ জুলাই পর্যন্ত ৩ লাখ ৬১ হাজার ১০৮ মেট্রিক টন ধান এবং ৯ লাখ ৫৭ হাজার ৬৪ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।” 

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, “পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুতের ফলে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা আরো শক্তিশালী হয়েছে এবং যেকোনো দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য সারাদেশে ওএমএস কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে, যাতে তারা সহনীয় মূল্যে চাল ও অন্যান্য খাদ্যশস্য কিনতে পারেন।”

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি জানান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে সহায়তা প্রদান করেছেন। পুনর্বাসনের জন্য তিন জেলায় ১৩০ মেট্রিক টন চাল ও ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

উপদেষ্টা বলেন, “নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘কিশোর-কিশোরী ক্লাব’ প্রকল্পের ১০৪ জন সদস্য মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ে তিনটি কন্ট্রোল রুম চালু রয়েছে।”

ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে ২১ হাজার অ্যান্টি-স্নেক ভেনম, ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৮৭৯টি কলেরা স্যালাইন, ৭৫ লাখ ৮৫ হাজার ২৯ প্যাকেট খাবার স্যালাইন এবং ৩৬ লাখ ১৯ হাজার ৫৭২টি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুত রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে। বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যুৎ বিভাগ ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডে কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম চালু রেখে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ১২ জুলাই প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫-এর ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ৭৯ হাজার ২৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। আগামী ১৫ জুলাই প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

বন্যার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে দ্রুত মেরামত কাজ সম্পন্ন করে ১২ জুলাই থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বন্যা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সরকারের ত্রাণ, উদ্ধার, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। জনগণের জীবন, খাদ্যনিরাপত্তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।