রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। দেশের প্রচলিত আইন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধান ও বিচারিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থি কোনো অপরাধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং একটি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলকে সক্রিয় করার লক্ষ্যে ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষকের তৎপরতার বিষয়টি নজরে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গভীর উদ্বেগের সঙ্গে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের প্রচলিত আইন, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং রাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থি। এর মাধ্যমে বিশ্ববদ্যালয় ও দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ ১৯৭৩-এর ৫৬(৩), প্রথম স্ট্যাটিউটসের ৪৫(৩) এবং অর্ডিন্যান্স ও রেগুলেশন চ্যাপ্টার ২০-এর বিধি ১৩ অনুযায়ী এ ধরনের তৎপরতা অশিক্ষকসুলভ ও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ।বিধি ১৩(২) অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরি থেকে অপসারণ বা বরখাস্তের শাস্তিমূলক বিধান রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে ঢাবি কর্তৃপক্ষ পুনর্ব্যক্ত করে, "রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, সংবিধান, আইন, বিচারিক সিদ্ধান্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদার পরিপন্থি কোনো কর্মকাণ্ডের প্রতি আমাদের শূন্য সহনশীলতা নীতি অব্যাহত থাকবে। পরিচয় বা অবস্থান নির্বিশেষে আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি লঙ্ঘনকারী কেউ দায় এড়াতে পারবেন না।"

একই সঙ্গে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।