ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে বিশেষ সংকলন প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। এতে জুলাই যোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ, গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের জুলাইকেন্দ্রিক কর্মসূচি স্থান পাবে। এ লক্ষ্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে লেখা আহ্বান করা হয়েছে।

রবিবার (১৯ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংকলনের জন্য লেখা এবং জুলাই-সংক্রান্ত কর্মসূচির বিবরণ আগামী ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক বরাবর পাঠাতে হবে। বাংলা ১২ পয়েন্টের SutonnyMJ ফন্ট ব্যবহার করে [email protected] ই-মেইল ঠিকানায় লেখা জমা দেওয়া যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, সংকলনে জুলাই যোদ্ধাদের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানবিষয়ক গবেষণাধর্মী ও বিশ্লেষণধর্মী প্রবন্ধ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের জুলাইকে ঘিরে আয়োজিত কর্মসূচির বিবরণ সংকলিত হবে। সংকলন প্রকাশের লক্ষ্যে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আবুল কালাম সরকারকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির আহ্বায়ক, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক।

এদিকে, ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাসব্যাপী কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে গত ১৭ জুলাই সন্ধ্যায় স্যার এ এফ রহমান হল মিলনায়তনে ‘গণ-অভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদমুক্তির মাস জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ, প্রামাণ্য ভিডিও প্রদর্শন এবং ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই স্যার এ এফ রহমান হল সন্ত্রাসমুক্ত হওয়ার ঘটনা তুলে ধরা হয়।

দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলেও পৃথকভাবে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা, প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতা।

এছাড়া, হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল ‘জুলাই স্মৃতিকথন’ শীর্ষক একটি বিশেষ সংকলন প্রকাশ করবে। পাশাপাশি শামসুন নাহার হল ২৬ জুলাই, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল ও ফজলুল হক মুসলিম হল ২৪ ও ২৫ জুলাই, রোকেয়া হল ৩০ জুলাই, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ২৫ জুলাই, শেখ মুজিবুর রহমান হল ১ থেকে ৪ আগস্ট, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ২৪ জুলাই, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ২৫ জুলাই, অমর একুশে হল ২৩ থেকে ২৫ জুলাই, বিজয় একাত্তর হল ২৩ জুলাই, নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরাণী ছাত্রী নিবাস ২২ জুলাই এবং ড. কুদরাত-ই-খুদা হোস্টেল ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে প্রকাশিতব্য এ সংকলন ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।