বৃষ্টি হলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে পানি জমে যায়। শুধু তাই নয়, জমে থাকা পানির সঙ্গে পাশের সুয়ারেজ ও ওয়াশরুমের লাইনও মিশে যায় বলে অভিযোগ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। দীর্ঘদিনের এই জলাবদ্ধতা ও মাঠ সংস্কারে প্রশাসনের বিলম্বের প্রতিবাদে আজ সোমবার মাঠের জমে থাকা পানিতে দেশীয় প্রজাতির কই ও মাগুর মাছ ছেড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে ডাকসু।

ডাকসুর অভিযোগ, মাঠ সংস্কারের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং এ জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের অবহেলা ও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এখনো সংস্কারকাজ শুরু হয়নি।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের আগে মাঠ সংস্কার করাটা আমার অন্যতম চ্যালেঞ্জিং ইশতেহার ছিল। আমরা মাঠ সংস্কারের উদ্যোগ নিলে প্রশাসন সরাসরি বলে দেয় তাদের কোনো বাজেট নেই। পরবর্তীতে বিসিবি থেকে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া যায় এবং ১০ ফেব্রুয়ারি ট্রেজারার স্যারকে সভাপতি করে একটি কমিটিও গঠিত হয়।’

প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রিতার কথা উল্লেখ করে আরমান হোসেন বলেন, ‘কমিটি গঠনের প্রায় দুই মাস পর ৩০ এপ্রিল মিটিং হয়। সেখানে অযৌক্তিক কারণ দেখিয়ে বলা হয়, মাঠ সংস্কার করলে পেছনের সুইমিং পুলে পানি ঢুকবে। অথচ এখন সুইমিং পুলেও একই পানি। এরপর সিদ্ধান্ত হয় ডিজিটাল সার্ভে করার। দেড় মাস পার হলেও দুই দিনের সেই সার্ভে কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি। ডিরেক্টর, প্রধান প্রকৌশলী বা ট্রেজারার কেউই এ বিষয়ে সঠিক উত্তর দিতে পারছেন না। আমরা স্পষ্ট বুঝতে পারছি, ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ আটকে রাখা হয়েছে।’

মাঠে জমে থাকা পানি সম্পর্কে আরমান হোসেন বলেন, এটি শুধু বৃষ্টির পানি নয়; পাশের সুয়ারেজ ও ওয়াশরুমের লাইনও এই পানির সঙ্গে মিশে যায়। পানি নেমে যাওয়ার পর পুরো মাঠ কালো হয়ে থাকে। এরপরও শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে সেই মাঠেই খেলাধুলা করে।

মাছ ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ক্রীড়া সম্পাদক বলেন, ‘যেহেতু মাঠটি এখন পুকুরে পরিণত হয়েছে, তাই আমরা দেশি মাছ ছেড়েছি। প্রশাসন যেহেতু সংস্কার করতে পারছে না, আমরা মাছ চাষ করব। এই মাছ বিক্রি করে যে অর্থ আসবে, তা দিয়েই মাঠ সংস্কার করব।’তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত মাঠ সংস্কারের কাজ শুরু না হলে শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র ও ট্রেজারার কার্যালয় ঘেরাও করা হবে।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ডাকসুর ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইকবাল হায়দার, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমাসহ বিভিন্ন হলের ভিপি, জিএস, এজিএস এবং অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।