বিক্রি হয়ে যাচ্ছে ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে চলাচলকারী বিলাসবহুল লঞ্চ এমভি সুরভী-৭। ১২ জুন লঞ্চটি বিক্রির জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয় মালিক পক্ষ। ৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা দাম চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও শেষমেশ ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রায় দুই যুগ আগে নির্মিত লঞ্চটি বিক্রির খবরে নেটিজেনদের মাঝে আলোচনা ছড়িয়েছে। একসময়ের আলোচিত এ লঞ্চ বর্তমানে লোকসানের কারণে বিক্রি হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর গত চার বছরে সুরভী-৭সহ ডজনখানেক বিলাসবহুল লঞ্চ বিক্রি করেছেন মালিকরা। অত্যাধুনিক এসব লঞ্চ ঢাকার ডকইয়ার্ডে নিয়ে কেটে কেজিদরে বিক্রি করা হচ্ছে।

সুরভী কোম্পানির মালিক মৃত গোলাম মাওলার মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তার দুই ছেলে রিয়াজ-উল কবির ও রেজিন-উল কবির পরিচালনা করছেন। বিক্রির খবরে লঞ্চটিতে কর্মরত প্রায় পঞ্চাশ জন স্টাফ দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। সুরভী-৭-এ কর্মরত সজিব বলেন, দীর্ঘদিন এ লঞ্চে চাকরি করায় যেমন মায়া কাজ করছে, অন্যদিকে নতুন করে চাকরি খুঁজতে হবে, সেই দুশ্চিন্তাও রয়েছে।

সুরভী কোম্পানির ম্যানেজার রেশাদ আহমেদ বলেন, লঞ্চে যাত্রী কমার কারণে প্রতিটি লঞ্চমালিকের লোকসান গুনতে হচ্ছে। যে কারণে একের পর এক বিক্রি হচ্ছে ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে চলাচলকারী বিলাসবহুল লঞ্চ। এ রুটে চলাচলকারী যাত্রী নাসির মাঝি বলেন, লঞ্চযাত্রায় বরিশালের মানুষদের কাছে সুরভী এক আস্থার যানবাহন ছিল। তাছাড়া এ রুটে অত্যাধুনিক বিলাসবহুল লঞ্চের সূচনা সুরভী কোম্পানি শুরু করেছিল। এখন সড়ক ব্যবস্থার উন্নতি হওয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে এসব লঞ্চ।