জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে ঢাকা শহর দিন দিন বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে। তবে পুরো ঢাকার তাপমাত্রা কি একই রকম? আর এই গরমের কারণে সুনির্দিষ্টভাবে কারা বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এবং ঢাকাকে একটি জলবায়ু সহনশীল নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে শুরু হয়েছে একটি বহুমাত্রিক গবেষণা প্রকল্প।
ওয়েলকাম ট্রাস্টের অর্থায়নে এই বহুমাত্রিক গবেষণায় অংশীদার হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), যুক্তরাষ্ট্রের টুলেন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন এবং লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির হেলথ সায়েন্সেস সেন্টার।
আন্তর্জাতিক এই গবেষণা প্রকল্পটির নাম ‘এক্সপোজিং হিডেন হিট: ম্যাপিং হিট-ড্রিভেন হেলথ ডিসপ্যারিটিজ অ্যান্ড অ্যাডভান্সিং পলিসি ইমপ্লিকেশন ফর ক্লাইমেট-রেজিলিয়েন্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট ইন ঢাকা, বাংলাদেশ’। প্রকল্পের লক্ষ্য, পদ্ধতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন গবেষণা পরিচালক যুক্তরাষ্ট্রের টুলেন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ সায়েন্সেস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাগো নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক রায়হান আহমদ।
জাগো নিউজ: আপনাদের এই গবেষণার মূল শিরোনাম ‘Exposing Hidden Heat’ বা লুকানো তাপমাত্রা উন্মোচন। ঢাকা শহরের ক্ষেত্রে এই ‘হিডেন হিট’ বা লুকানো তাপমাত্রা বিষয়টি আসলে কী?
ড. মোস্তাফিজুর রহমান: এটি খুবই আকর্ষণীয় একটি বিষয়। বর্তমানে মেট্রো ঢাকা মিলিয়ে প্রায় দুই কোটির বেশি মানুষ বাস করে। কিন্তু এই বিশাল জনসংখ্যার জন্য ঢাকায় সরকারি আবহাওয়া বা ওয়েদার স্টেশন কয়টা আছে? মাত্র একটা, তাও আগারগাঁওয়ে। এর মানে হলো, অতীতে আমরা যখনই তাপমাত্রা নিয়ে কাজ করেছি, তখন উত্তরা বা পুরান ঢাকার মানুষের ক্ষেত্রেও আগারগাঁওয়ের তাপমাত্রাটাই বসাতে হয়েছে। এটা একটা বড় সীমাবদ্ধতা।
বাস্তবে আমরা যখন ঢাকায় চলাচল করি, আমরা সবাই জানি যে বসিলায় এক রকম গরম, ধানমন্ডিতে একরকম, গুলশানে আরেক রকম। আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েট এলাকায় গেলে একটা শীতল পরিবেশ পাওয়া যায়, অথচ বাংলামোটরে এলেই গরমে অস্থির হতে হয়। তাপমাত্রা যে এলাকাভেদে এভাবে ভিন্ন হচ্ছে, এটাই হচ্ছে ‘হিডেন হিট’, যা সুনির্দিষ্টভাবে আমরা এখনো জানি না। আমাদের এই প্রজেক্টের প্রথম কাজই হলো এই লুকানো তাপমাত্রার তারতম্যটা খুঁজে বের করা।
জাগো নিউজ: এই লুকানো তাপমাত্রা বা ‘হিডেন হিট’ খুঁজে বের করার জন্য আপনাদের মাঠপর্যায়ের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বা পরিকল্পনাটা কেমন?
ড. মোস্তাফিজুর রহমান: এই প্রকল্পের অধীনে আমরা ঢাকা শহরের ২০টি ভিন্ন ভিন্ন লোকেশনে নতুন ওয়েদার স্টেশন বা ফিক্সড মনিটর বসাবো। এই লোকেশনগুলো আমরা এমনভাবে বেছে নিচ্ছি যাতে ঢাকার বৈচিত্র্য বা কন্ট্রাস্টটা ধরা পড়ে। যেমন, কিছু খুব ঘনবসতিপূর্ণ উন্নত এলাকা, কিছু কম ঘনবসতি এলাকা, কিছু বস্তি এলাকা এবং বুয়েটের মতো গাছপালা ঘেরা শীতল এলাকা। এখান থেকে ২৪ ঘণ্টা মিনিট-ভিত্তিক ডেটা পাওয়া যাবে। এর পাশাপাশি আমরা ‘মোবাইল মনিটরিং’ করবো।
আমরা ঢাকাকে ১০টা ক্লাইমেট জোনে ভাগ করেছি। এর মাধ্যমে এই জোনগুলো থেকে আমরা প্রতিদিনের তাপমাত্রার ডাটা নেব। ফিক্সড স্টেশনে তো পুরো ঢাকা কভার হবে না, তাই মানুষ যে নেইবারহুড বা রাস্তাঘাটে চলাচল করে, সেখানে তাপমাত্রা কেমন ভ্যারি করে তা ক্যাপচার করতেই এই মোবাইল মনিটরিং।
জাগো নিউজ: আজকাল তো স্যাটেলাইট ডেটা দিয়েই যে কোনো জায়গার তাপমাত্রা সহজে জানা যায়। তাহলে অন-গ্রাউন্ডে এত স্টেশন বা মোবাইল মনিটরিংয়ের প্রয়োজন কেন হচ্ছে?
ড. মোস্তাফিজুর রহমান: অনেকেই এই প্রশ্নটা করতে পারেন যে স্যাটেলাইট ডেটা তো আছেই। কিন্তু একটা বড় পার্থক্য বুঝতে হবে। স্যাটেলাইট আমাদের যে ডেটা দেয়, সেটা হলো ল্যান্ড সারফেস টেম্পারেচার (ভূমির তাপমাত্রা)। আর আমাদের এই গবেষণার মূল ফোকাস হলো ‘অ্যাম্বিয়েন্ট টেম্পারেচার’ বা এয়ার টেম্পারেচার (বাতাসের তাপমাত্রা)। ল্যান্ড সারফেস টেম্পারেচার দিয়ে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পুরোপুরি বোঝা যায় না। আপনি-আমি মানুষ হিসেবে যে গরমটা সরাসরি অনুভব করি, সেটা হলো এয়ার টেম্পারেচার। এই এয়ার টেম্পারেচারের ওপরই মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বা রোগব্যাধি নির্ভর করে। এই কারণে আমাদের স্টাডিটা অন্য যে কোনো সাধারণ স্যাটেলাইটভিত্তিক স্টাডির চেয়ে আলাদা এবং বেশি নিখুঁত হবে।
আরও পড়ুন
অসহ্য গরমে ঝুঁকিতে শিশু-বয়স্করা, জরুরি সতর্কতা
জাগো নিউজ: এই গবেষণায় ঢাকার মানুষের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির বিষয়টি কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে? কোন কোন রোগের ওপর আপনাদের মূল নজর থাকবে?
ড. মোস্তাফিজুর রহমান: আমাদের সেকেন্ড গোল বা দ্বিতীয় লক্ষ্যই হচ্ছে গরমের স্বাস্থ্যগত প্রভাব দেখা। স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে মূলত আমাদের ফোকাস থাকবে হিট-রিলেটেড ইলনেস (গরমজনিত অসুস্থতা), কার্ডিওভাসকুলার প্রবলেম বা হৃদরোগ, হিট স্ট্রোক এবং কিডনি ডিজিজের মতো সমস্যাগুলোর ওপর। আগে আমরা যে ডেটা পেতাম, সেটা ছিল গড় ডেটা। ফলে সুনির্দিষ্টভাবে কোন এলাকার কোন মানুষগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তা জানা যেত না।
এখন আমরা ব্যক্তিগত স্তরের ডেটা নিয়ে কাজ করবো। হাসপাতাল থেকে যখন কোনো রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরে তখন একটা আইসিডি কোড দেওয়া থাকে। ওই কোড ধরে অনুসন্ধান করলে নির্দিষ্ট এলাকা থেকে কতজন হিট-রিলেটেড পেশেন্ট হাসপাতালে গেছেন, তার নিখুঁত হিসাব পাওয়া যাবে।
জাগো নিউজ: হাসপাতালের এই রোগীদের ডেটা আপনারা কীভাবে সংগ্রহ করবেন এবং তাদের সুনির্দিষ্ট এলাকার সঙ্গে সংযোগ ঘটাবেন কীভাবে?
ড. মোস্তাফিজুর রহমান: এই প্রজেক্টের অন্যতম প্রধান স্টেকহোল্ডার বা অংশীজন হচ্ছে সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তারা এখন তাদের ইলেকট্রনিক রেকর্ড সিস্টেমে পেশেন্টের লোকেশন বা সুনির্দিষ্ট ঠিকানা (যেমন মিরপুর-১ বা নির্দিষ্ট এলাকা) এবং ন্যাশনাল আইডি কার্ডের তথ্য রেকর্ড করে রাখছে এবং এই তথ্যগুলো তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ডেইলি বেসিসে রিপোর্ট করে। সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এই তথ্যগুলো আমাদের দেবে এই গবেষণার জন্য।
আমরা পুরো ঢাকাকে ৬০ মিটার গ্রিডে (প্রায় ২০০ ফুট) ভাগ করবো। এই ৬০ মিটার গ্রিডের তাপমাত্রার ডেটার সঙ্গে আমরা হাসপাতালে যাওয়া রোগীদের ঠিকানার লিংকেজ বা সংযোগ ঘটাবো। এর মাধ্যমে আমরা দেখতে পারব, মিরপুর, মালিবাগ নাকি বাংলামোটরের মানুষ বেশি ইফেক্টেড হচ্ছে; যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তারা লো-ইনকাম গ্রুপ নাকি হাই ইনকাম গ্রুপের, নাকি বস্তি থেকে আসছেন। এছাড়া কোন বয়সের মানুষ বেশি ভুগছেন। এই পপুলেশন ও লোকেশন আইডেন্টিফাই করাই আমাদের লক্ষ্য।
জাগো নিউজ: গবেষণা শেষ হলে অনেক সময় রিপোর্ট লাইব্রেরিতেই থেকে যায়। রাজউক বা সিটি করপোরেশন যাতে এগুলো ব্যবহার করতে পারে, সেজন্য আপনাদের কী পরিকল্পনা আছে?
ড. মোস্তাফিজুর রহমান: আমরা শুধু গবেষণা বা পাবলিকেশন করেই থেমে থাকবো না। আমাদের প্রজেক্টের একটা বড় আউটপুট হবে একটি ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড এবং ‘অপরচুনিটি ম্যাপ’ তৈরি করা, যার জন্য প্রজেক্টে আলাদা ফান্ডিং আছে। এটি পাবলিকলি ওপেন থাকবে এবং রাজউক ও ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাছে দেওয়া থাকবে।
আমরা ড্রোন ইমেজ ব্যবহার করে প্রতিটি ৬০ মিটার গ্রিডের এক্সিস্টিং কন্ডিশন বা বর্তমান অবস্থা ম্যাপ করবো, কোথায় কনক্রিট বেশি, কোথায় কম, কতটুকু গ্রিন স্পেস বা জলাশয় আছে। রাজউক বা সিটি করপোরেশন ড্যাশবোর্ডের যে কোনো গ্রিডে ক্লিক করলেই দেখতে পাবে, ওই এলাকায় বাস্তবসম্মতভাবে আর কতটুকু ছাদবাগান ব্যালকনি গার্ডেন বা রাস্তার পাশে গাছ লাগানোর সুযোগ আছে। এর ফলে সরকারের উচ্চপর্যায় যখন এই সমস্যা সমাধানের কোনো পদক্ষেপ নিবে, সেই ইন্টারভেনশনটা যেন একদম রাইট জায়গায় এবং রাইট পারসনের কাছে পৌঁছায়।
আরও পড়ুন
আসছে ‘এল নিনো’: জুন-আগস্টেই চরম আবহাওয়ার সতর্কবার্তা জাতিসংঘের
জাগো নিউজ: সাধারণ মানুষকে ছাদবাগানে উৎসাহিত করতে নগর কর্তৃপক্ষ বা সিটি করপোরেশনকে আপনারা কী ধরনের পলিসি বা নীতিমালার পরামর্শ দেবেন?
ড. মোস্তাফিজুর রহমান: রাজউক এবং সিটি করপোরেশন এই প্রজেক্টে আমাদের সঙ্গে পার্টনার হিসেবে কাজ করছে। আমরা গবেষণায় যে অপরচুনিটি ম্যাপ বা সুযোগগুলো আইডেন্টিফাই করব, তা তাদের পলিসি লেভেলে নেওয়ার জন্য দেব। যেমন, তারা যদি দেখে কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় বিপুল পরিমাণ উন্মুক্ত ছাদ আছে কিন্তু মাত্র ১০ শতাংশ ছাদে বাগান করা হয়েছে, অথচ সেখানে আরও বাড়ানোর সুযোগ আছে, তখন তারা একটা ইনসেন্টিভ বা প্রণোদনামূলক পলিসি নিতে পারে। সিটি করপোরেশন ঘোষণা করতে পারে যে, আপনার বাসায় যদি নির্দিষ্ট নিয়মে ছাদবাগান থাকে, তবে আপনার হোল্ডিং ট্যাক্স বা কর কমিয়ে দেওয়া হবে। এই ধরনের পলিসি বা নিয়ম হাতে নিলে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছাদবাগান করবে, যা পুরো এলাকার তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করবে।
জাগো নিউজ: এই প্রকল্পের অধীনে ‘পাইলট কুলিং স্টেশন’ তৈরির কথা শুনলাম। এগুলো আসলে কী এবং কীভাবে কাজ করবে?
ড. মোস্তাফিজুর রহমান: হ্যাঁ, আমরা এই প্রজেক্টের আন্ডারে ঢাকার তীব্র গরমের এলাকা বা হটস্পটগুলোতে চারটি পাইলট কুলিং স্টেশন স্থাপন করব। আমাদের টিমের আর্কিটেকচার বিভাগের প্রধান অধ্যাপক খন্দকার সাবির আহমেদ এটির ডিজাইন করবেন। এটি সম্পূর্ণ ক্লাইমেট-ফ্রেন্ডলি উপায়ে ফ্যান এবং পানির সাহায্যে ঠান্ডা রাখার একটি বিশ্রামাগার হবে। আমরা এখানে এসি ব্যবহার করব না, কারণ এসির নিজস্ব ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট বা ক্ষতিকর দিক আছে। এগুলো মোবাইল কুলিং স্টেশন হিসেবে যেমন গুলিস্তান বাসস্ট্যান্ডের মতো ব্যস্ত জায়গায় থাকবে।
বাস থেকে নেমে বা বাসের জন্য অপেক্ষারত সাধারণ ও শ্রমজীবী মানুষ সেখানে এসে একটু জিরিয়ে নিতে পারবে, ঠান্ডা পানি পাবে। এই কুলিং সেন্টারে একজন করে প্যারামেডিক থাকবে, যারা ওই মানুষদের ব্ল্যাড প্রেসার বা ডায়াবেটিস একটু মেপে দেবে। আমাদের সোশ্যাল সায়েন্স টিম তখন এই স্টেশনে আসা মানুষদের ইন্টারভিউ নিয়ে ওনাদের অনুভূতি ও ফিডব্যাক রেকর্ড করবে, যাতে পরবর্তীতে সরকারের কাছে এটি একটি বেস্ট মডেল হিসেবে বাস্তবায়নের রিকমেন্ডেশন দেওয়া যায়। ঢাকায় এখন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দুইটা কুলিং স্টেশন আছে। আমরা সেগুলো পরিদর্শন করেছি। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এই প্রজেক্টের পার্টনার। তারা এই কাজে আমাদের সার্বিক সহযোগিতা করবে।
আরও পড়ুন
গরমে স্বাস্থ্যসমস্যা ও করণীয়
জাগো নিউজ: এটি কি শুধু তিন বছরের জন্য ঢাকা শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ঢাকার বাইরেও এর সম্প্রসারণ সম্ভব?
ড. মোস্তাফিজুর রহমান: এই প্রজেক্টটির অফিশিয়াল টাইমলাইন তিন বছর, যা ২০২৮ সালে শেষ হবে। আমাদের টিমটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এটি একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি প্রজেক্ট, যেখানে এনভায়রেনমেন্টাল হেলথ সায়েন্টিস্ট, এনভায়রেনমেন্টালিস্ট, আরবান প্ল্যানার, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, আর্কিটেক্ট, মেটেরোলজিস্ট ও সোশ্যাল সায়েন্স; এই ছয়টি ডিসিপ্লিনের বিশেষজ্ঞরা একসঙ্গে কাজ করছেন।
জাগো নিউজ: গবেষণার মাধ্যমে সরকার কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেবে?
ড. মোস্তাফিজুর রহমান: এতদিন আমাদের কাছে শুধু পুরো ঢাকার একটি গড় বা এভারেজ তাপমাত্রার হিসাব ছিল। কিন্তু এই গবেষণার পর আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বুঝতে পারব ঢাকার তাপমাত্রা এলাকাভেদে কীভাবে পরিবর্তিত হয় (যেমন: বসিলা বনাম গুলশানের গরমের পার্থক্য) এবং এই পরিবর্তনের কারণে কোন এলাকার মানুষ বেশি স্ট্রোক বা হৃদরোগের ঝুঁকিতে আছেন। দিনশেষে এই আউটপুটগুলো দেখে সরকার, রাজউক বা সিটি করপোরেশন একদম সঠিক জায়গায়, সঠিক মানুষের জন্য সঠিক পদক্ষেপ (যেমন: নির্দিষ্ট এলাকায় ট্যাক্স ছাড় দিয়ে ছাদবাগান করানো বা কুলিং স্টেশন বসানো) নিতে পারবে। এর ফলে ঢাকা শহরকে একটি সত্যিকার অর্থেই ‘জলবায়ু সহনশীল নগরী’ হিসেবে গড়ে তোলা সহজ হবে।
আরএএস/এমআইএইচএস/এমএমএআর








