পারিবারিক অনুষ্ঠান শেষে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বাড়ি থেকে মেয়েকে নিয়ে রাজধানী ঢাকায় ফিরছিলেন ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তা সোহেলি ইসলাম (৪২)। ভোরে গাবতলীতে বাস থেকে নেমে রিকশা নিয়ে বাসার উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু তার আর ঘরে ফেরা হয়নি।
গত ৭ জুন সোহেলি ও তার মেয়েকে বহনকারী রিকশাটি যখন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফটক পার হয়ে যাচ্ছিল তখনই পাশে মোটরসাইকেল নিয়ে হাজির হয় হেলমেট পরা দুই ছিনতাইকারী। তাদের একজন আচমকা সোহেলির হাতে প্যাঁচানো ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করে। এতে একপর্যায়ে চলন্ত রিকশা থেকে পড়ে যান তিনি। ভেঙে যায় তার ডান হাত, মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত পান ও কান দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে। সকাল সোয়া ৬টার দিকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় সোহেলিকে হাসপাতালে ভর্তি করেন মেয়ে। তবে চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১১ জুন তার মৃত্যু হয়।
একই রকম পরিণতি হয় রাজধানীর উত্তরার বাসিন্দা মুক্তা আক্তারের (২১)। গত ঈদুল ফিতরের দুইদিন আগে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা করতে বের হয়ে ছিনতাইকারীদের হাতে প্রাণ হারান এই নারী।
ওইদিন সকালে ফায়দাবাদের বাসা থেকে বের হয়ে অটোরিকশায় করে বিপণিবিতানে যাচ্ছিলেন মুক্তা। পথে উত্তরা দক্ষিণ মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি প্রাইভেটকার এসে রিকশাটির গা ঘেঁষে দাঁড়ায়। মুহূর্তের মধ্যে গাড়ি থেকে হাত বাড়িয়ে রিকশাযাত্রী মুক্তার ব্যাগ টান দেয় ছিনতাইকারী। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সড়কে পড়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কয়েক হাসপাতাল ঘুরিয়ে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসক দুপুরে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আরও পড়ুন
ঢাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জে পুলিশ
দিনে গড়ে ১০ খুন, থামছে না নারী-শিশু নির্যাতন
রাজধানীজুড়ে ছিনতাই আতঙ্ক
সোহেলি ও মুক্তার এই পরিণতি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, রাজধানীজুড়ে একের পর এক এমন ছিনতাই বেশ উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে নগরবাসীর মনে। ছোটবড় মিলিয়ে প্রতিদিনই সংবাদের তালিকায় থাকছে কোনো না কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনা।
সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে ছিনতাই আতঙ্কের মধ্যে দৈনন্দিন কাজ সারছেন। বিশেষ করে মধ্যরাত ও ভোররাতে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন ভুক্তভোগীরা। এর মধ্যে কিছু বড় বা আলোচিত ঘটনায় থানায় মামলা হলেও, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হয় সাধারণ ডায়েরি (জিডি), যা মামলার তালিকায় লিপিবদ্ধ হয় না।
যদিও সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের সমালোচনার জবাবে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, বিগত অনেক সময়ের তুলনায় বর্তমানে অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়নি।’
রাজধানী ঢাকায় সক্রিয় ছিনতাইকারীর পরিসংখ্যান/ছবি: এআই নির্মিত
পুলিশ সদস্যরাও হামলার শিকার
রাজধানীর ছিনতাইকারী চক্রের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত নানা পদক্ষেপ নিলেও তাদের নিয়ন্ত্রণে হিমশিমই খেতে হচ্ছে বাহিনীর সদস্যদের। এমনকি হামলার শিকারও হতে হচ্ছে তাদের।
গত ১৬ জুন আদাবরে একটি দোকানে ঢুকে চাপাতি ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এর পরপরই ছিনতাইকারীদের আস্তানায় রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় ছিনতাইকারীদের চাপাতির আঘাতে আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) তরুণ কুমার গুরুতর আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাল্টা গুলিতে দুই ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করে পুলিশ।
বর্তমান বাস্তবতায় চুরি ও ছিনতাইকে সহজে জামিনযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার সময় শেষ। এসব অপরাধে এখন পেশাদার অপরাধী চক্র সক্রিয়ভাবে যুক্ত হচ্ছে। অনেক অপরাধী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, তাদের হাতে দেশীয় ও প্রাণঘাতী অস্ত্র থাকে এবং একটি বড় অংশ মাদকাসক্ত।- অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক
এক বছরে ৪১৮ মামলা
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত ঢাকার ৫০টি থানার আটটি বিভাগে ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা হয়েছে ৪১৮টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে আগস্ট মাসে ৫৪টি। এছাড়া সবচেয়ে কম ২৫টি মামলা হয়েছে ফেব্রুয়ারি মাসে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জুন মাসে মোট ৩৯টি, জুলাইয়ে ৪৩টি, সেপ্টেম্বরে ৪২টি, অক্টোবরে ৩১টি, নভেম্বরে ৩৬টি ও ডিসেম্বরে ২৮টি ছিনতাইয়ের মামলা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৩০টি, মার্চে ২৯টি, এপ্রিলে ২৬টি ও মে মাসে ৩৫টি মামলা হয়েছে।
এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ১০৬টি মামলা হয়েছে তেজগাঁও বিভাগে। আর সবচেয়ে কম ১৭টি মামলা হয় লালবাগে। এছাড়া রমনায় ৩৪টি, ওয়ারীতে ৯১টি, মতিঝিলে ৭৩টি, মিরপুরে ৩৯টি, গুলশানে ২৮টি ও উত্তরা বিভাগে ৩০টি ছিনতাই মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।
তবে অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, মামলার তুলনায় ছিনতাইয়ের প্রকৃত ঘটনা কয়েকগুণ বেশি। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা থানায় যান না। আবার অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী মামলা করতে গেলেও থানা থেকে হারানোর জিডি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। যে কারণে প্রকৃত পরিসংখ্যান উঠে আসে না।
আরও পড়ুন
আগে ফাঁকা গুলি পরে পায়ে, অস্ত্র পাচ্ছেন মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা
রাস্তা দখলের ‘বৈধ হাতিয়ার’ এখন ‘হকার কার্ড’
সক্রিয় ১ হাজার ৩৮৭ ছিনতাইকারী
ডিএমপি জানিয়েছে, বর্তমানে রাজধানীতে এক হাজার ৩৮৭ ছিনতাইকারী সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩০৮ জন আছে ওয়ারী বিভাগে। সবচেয়ে কম ৫৩ জন রয়েছে মিরপুরে।
এছাড়া রমনায় ১৫২, লালবাগে ১৫৯, মতিঝিলে ১৬৮, তেজগাঁওয়ে ২৪০, গুলশানে ৬৭ ও উত্তরা বিভাগে ২৪০ ছিনতাইকারী রয়েছে। এসব ছিনতাইকারীর ৮০ শতাংশই একাধিক মামলার আসামি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
ওয়ারী বিভাগে ছিনতাই এবং ছিনতাইকারী বাড়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও ডেমরা এক্সপ্রেসওয়ের একটি অংশ ওয়ারী বিভাগে পড়েছে, যা ছিনতাইয়ের অন্যতম কারণ। যখন মহাসড়কগুলোতে গাড়ি যানজটে পড়ে তখন ছিনতাইকারীরা জানালা দিয়ে মোবাইল টান দেয়। আবার অনেক যাত্রী ঢাকার বাইরে থেকে এসে ভোরবেলা নামেন। তখন তারা ছিনতাইয়ের শিকার হন। এসব ঘটনায় পুলিশ চাইলেও রাস্তার মাঝখানে টহল দিতে পারছে না। এই এলাকায় ভাসমান লোকের বসবাসও বেশি বলে জানান তিনি।
চলতি বছরের মে মাসে ১৩৮ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে জানিয়ে ডিসি সামী বলেন, ‘আমরা জনপদ মোড় থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত তালিকা করে ছিনতাইকারী গ্রেফতার করেছি। কিন্তু এসব ছিনতাইকারী আবার কয়দিন পর জামিনে মুক্তি পেয়ে এসে ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। তারপরও টহল ও ব্লকেড জোরদার করেছি। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করছি। কুতুবখালী পকেট গেটটি খোলা থাকায় এখানে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটছে। তাই আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই পকেট গেটটি বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।’
ডিএমপির বিভিন্ন থাকায় এক বছরে হওয়া ছিনতাই মামলার পরিসংখ্যান/ছবি: এআই নির্মিত
চুরি-ছিনতাইকে জামিনযোগ্য বিবেচনা করার সময় শেষ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক জানান, চুরি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মামলা গ্রহণ ও অপরাধীদের গ্রেফতার করলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা অল্প সময়ের মধ্যেই জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচারব্যবস্থার নেওয়া পদক্ষেপের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির একটি বড় ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে উঠছে, যা অপরাধীরা কাজে লাগাচ্ছে।
ড. তৌহিদুল হকের মতে, বর্তমান বাস্তবতায় চুরি ও ছিনতাইকে সহজে জামিনযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার সময় শেষ। এসব অপরাধে এখন পেশাদার অপরাধী চক্র সক্রিয়ভাবে যুক্ত হচ্ছে। অনেক অপরাধী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, তাদের হাতে দেশীয় ও প্রাণঘাতী অস্ত্র থাকে এবং একটি বড় অংশ মাদকাসক্ত। ছিনতাইয়ের সময় তারা শুধু সম্পদ লুটেই ক্ষান্ত হয় না, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীকে হত্যা বা গুরুতর আহতও করে।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিচারব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে বাস্তবতাভিত্তিক সংস্কার প্রয়োজন জানিয়ে তিনি বলেন, ছিনতাইকারী ও চোর চক্রের হোতা, পৃষ্ঠপোষক এবং সংগঠিত গ্যাংগুলোর নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় শুধু মাঠপর্যায়ের অপরাধীদের গ্রেফতার করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। এছাড়া, অনেক ক্ষেত্রে ছিনতাই বা চুরির শিকার ব্যক্তিরা থানায় গেলে মামলা নেওয়ার পরিবর্তে হারিয়ে যাওয়ার জিডি করার পরামর্শ পান বলে অভিযোগ রয়েছে। অথচ হারিয়ে যাওয়া এবং ছিনতাই বা চুরির ঘটনা এক নয়। বাস্তব অপরাধকে যথাযথভাবে আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
অপরাধ অর্থনীতির সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোনো সদস্য বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বার্থসংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তা না হলে অপরাধ দমনে কার্যকর ফল পাওয়া কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন এই বিশেষজ্ঞ।
পৃথিবীর অন্যতম বড় শহরের তালিকায় ঢাকা। আমাদের ঠিক ওই পরিমাণে জনবলটা নাই। যদি পুলিশের জনবল-যানবাহন বাড়ানো হয়, কিছু টেকনিক্যাল সাপোর্ট বাড়ানো হয়, তাহলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ পুলিশের জন্য আরও সহজ হবে।- ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী
বেড়েছে পুলিশের অভিযানের হার
অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আসামি গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের ডিসি মো. ইবনে মিজান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমাদের অভিযানের ফ্রিকোয়েন্সিটা বাড়িয়েছি। আগে হয়তো সপ্তাহে এক-দুইবার ব্লক রেইড করতাম, এখন মোটামুটি একদিন পরপরই দেখা যাচ্ছে যে অপরাধপ্রবণ এলাকাকে টার্গেট করে করে ব্লক রেইড করি।’
‘মোহাম্মদপুরকেন্দ্রিক যে অপরাধগুলা ঘটছে, সবগুলো ঘটনায় আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকে এসে অপরাধ ঘটিয়ে আবার চলে গেছে। এলেক্স ইমনের (হত্যা) বিষয়টা যদি মনে করেন, ওরা কেরানীগঞ্জ থেকে এসে মোহাম্মদপুরে কুপিয়ে চলে যায়। আশপাশে যে থানাগুলো- সাভার, আশুলিয়া, কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, এসব এলাকা থেকে এসে তারা অপরাধ করে আবার নিজ নিজ এলাকায় চলে যায়। মোহাম্মদপুরকেন্দ্রিক অপরাধের ঘটনায় অপরাধীদের সব এলাকা থেকে ধরছি। মাঝে ভোলায় গিয়ে আসামি ধরে নিয়ে আসাও হয়েছে। আমাদের এই অভিযানের ফলেই তারা এখানে থাকতে পারছে না। আমরা এ অভিযানটা অব্যাহত রাখছি,’ যোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন
আবাসিক রূপে ফিরছে ধানমন্ডি, সংশোধন হচ্ছে নীতিমালা
থামছে না বজ্রপাতে মৃত্যু, সতর্কবার্তা পৌঁছানোই বড় চ্যালেঞ্জ
দরকার পুলিশের জনবল-যানবাহন বাড়ানো
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জাগো নিউজকে জানান, পুলিশে কাজ দুই রকমের হয়। একটি হলো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, যেখানে অপরাধ হওয়ার আগেই বিট পুলিশিং ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়। এজন্য বিট অফিসাররা জনগণ, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, ধর্মীয় নেতা, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়- সবাইকে নিয়ে নজরদারি কমিটি তৈরি করেন। যাতে কোনো ধরনের অপরাধ সংগঠিত না হয়। আর সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে যারা অপরাধী তাদের পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য আদালতে পাঠানো হয়।
‘এইভাবেই আসলে আমাদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। একটা হচ্ছে অপরাধ সংগঠিত হওয়ার পূর্বে এবং আরেকটি পরে। এছাড়া নিয়মিত অভিযান, টহল, আসামি গ্রেফতারসহ অপরাধ নির্মূলে পুলিশের পক্ষ থেকে রুটিন অনুযায়ী নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকি,’ যোগ করেন তিনি।
রাজধানীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে না আসার দুর্বলতার বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘পৃথিবীর অন্যতম বড় শহরের তালিকায় ঢাকা। আমাদের ঠিক ওই পরিমাণে জনবলটা নাই। যদি পুলিশের জনবল-যানবাহন বাড়ানো হয়, কিছু টেকনিক্যাল সাপোর্ট বাড়ানো হয়, তাহলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ পুলিশের জন্য আরও সহজ হবে।’
কেআর/একিউএফ








