ঢাকার ধামরাইয়ে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই ভাইকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। হামলায় গুরুতর আহত দুই ভাই বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) হামলায় আহত ব্যক্তিদের চাচা, সাভার পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর মো. আবুল হোসেন মোল্লা সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন। পৌর এলাকার নামাবাজারে তাঁর কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আবুল হোসেন দাবি করেন, গত ২৬ জুন ধামরাই উপজেলার বড় কুশিয়ারা এলাকায় জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মাপজোখ চলাকালে তাঁর ভাতিজা খোকন মোল্লা এবং খোকনের দুই ছেলে ইফাদ মোল্লা ও ফাহাদ মোল্লা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর অপর দুই ভাতিজা আনোয়ার হোসেন মোল্লা (৫৫) ও মনির হোসেন মোল্লার (৫০) ওপর হামলা চালান।

আবুল হোসেন মোল্লার দাবি, গুরুতর আহত অবস্থায় আনোয়ার ও মনিরকে প্রথমে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে আনোয়ারের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকায় এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তিনি এখনো সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন। অস্ত্রোপচারের পর মনিরকে হাসপাতাল থেকে বাসায় নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আবুল হোসেন আরও অভিযোগ করেন, খোকন মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাঁর দাবি, খোকনের দুই ছেলে ইফাদ ও ফাহাদও এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত । এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগও করেন তিনি।

জমিসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে আবুল হোসেন মোল্লা জানান, তাঁর ভাই শাহজাহান মোল্লা জীবদ্দশায় সন্তান ও নাতিদের মধ্যে জমি ভাগ করে দেন এবং দলিলে প্রত্যেকের অংশের সীমানা উল্লেখ করে দেন। সম্প্রতি খোকন মোল্লা নিজের অংশ বিক্রির পর তাঁর দুই ছেলের অংশ বিক্রির উদ্যোগ নিলে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁর দাবি।

এ ঘটনায় মনির মোল্লার স্ত্রী রেহেনা বেগম বাদী হয়ে গত ২৮ জুন ধামরাই থানায় খোকন মোল্লা, তাঁর দুই ছেলেসহ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেছেন।

তবে আবুল হোসেনের অভিযোগ, হামলার শিকার না হওয়া সত্ত্বেও অভিযুক্ত পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধেও একটি পাল্টা মামলা নেয় থানা-পুলিশ।

মোবাইল বন্ধ থাকায় এসব অভিযোগের বিষয়ে খোকন মোল্লা এবং তাঁর দুই ছেলে ইফাদ মোল্লা ও ফাহাদ মোল্লার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।