বগুড়ার ধুনট উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের বেড়েরবাড়ি দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের তিনজন আহত হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে বিদ্যালয়টিতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিবুর রহমান বিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের জন্য তাঁর শ্যালকের স্ত্রী সুলতানা খাতুনের নামে সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের কাছ থেকে চাহিদাপত্র নেন। আজ দুপুরে চাহিদাপত্রসহ নিমগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আলেখ উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলামসহ অন্য নেতা-কর্মীকে নিয়ে বিদ্যালয়টিতে যান এবং কমিটি গঠনের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে বিএনপি নেতা আব্দুল খালেকের ছেলে রেজাউল করিম তাঁর সমর্থকদের নিয়ে বিদ্যালয়ে যান। পরে তাঁরা চাহিদাপত্রটি ভুয়া দাবি করে কমিটি গঠনে বাধা প্রদান করলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতি ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা।
এ সময় ছুরিকাঘাতে রেজাউল করিম ও তাঁর সহযোগী শাহ আলম আহত হন। পরে রেজাউল করিমের সমর্থকেরা হামলা চালিয়ে বিদ্যালয়ের জানালা ও গ্রিল ভাঙচুর করেন এবং বিএনপি নেতা আলেখ উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম ও মনিবুর রহমানকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে ধুনট থানা-পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে।
জানা গেছে, আহত রেজাউল করিমকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শাহ আলম ও শফিকুল ইসলামকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ধুনট উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মনিবুর রহমান রহমান বলেন, ‘আমার ছোট বোনকে সংসদ সদস্য চাহিদাপত্র (ডিও লেটার) দিয়েছেন। সেই চাহিদাপত্র নিয়ে অ্যাডহক কমিটি গঠনের জন্য প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে যাই। এ সময় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে আমাদের অবরুদ্ধ রেখে মারপিট করে তারা।’
ছুরিকাঘাতে আহত রেজাউল করিম দাবি করে বলেন, ‘চাহিদাপত্রটি আমাদের দেওয়ার কথা ছিল। এ মুহূর্তে সংসদ সদস্য দেশের বাইরে আছেন। তাঁরা চাহিদাপত্র পেলেন কীভাবে? বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে মনিবুর রহমানের ছেলে বোরহান উদ্দীন আমাকে ও আমার এক সহযোগীকে ছুরিকাঘাত করে।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সানাউল্লাহ বলেন, ‘সংসদ সদস্য স্বাক্ষরিত চাহিদাপত্রটি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে কমিটি গঠনের জন্য দুই পক্ষের নিকট এক সপ্তাহ সময় নেওয়া হয়েছে। আমার অফিসকক্ষে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে ছুরিকাঘাতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
এ বিষয়ে ধুনট থানার উপপরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির সময় এক পক্ষ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে তাঁদের উদ্ধার করা হয়েছে।’
ধুনট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুস শুকুর বলেন, কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







