সৌদি আরবে পাচার ও জিম্মি করে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে বরিশালে ৪ ভাই-বোনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পৃথক তিনটি ধারায় ৩ ভাইকে মোট ১৯ বছর করে ও বোনকে ১৭ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রত্যেককে ৬ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
বরিশাল মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সোহেল আহমেদ সোমবার এ দণ্ডাদেশ দেন।
দণ্ডিতরা হলেন বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের পানবাড়িয়া গ্রামের বাবুল হাওলাদারের ছেলে রাশেদ হাওলাদার (২৫), রাসেল হাওলাদার (৩৫), টিপু হাওলাদার (২২) ও মেয়ে রেশমা আক্তার (৩০)।
তাঁদের মধ্যে রেশমা আক্তার ছাড়া অন্যরা পলাতক রয়েছেন। রায় ঘোষণার পর রেশমাকে আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়।
ট্রাইব্যুনালের কম্পিউটার অপারেটর আকাশ চন্দ্র দাস মামলার নথির বরাত দিয়ে জানান, উচ্চ বেতনসহ নানা প্রলোভন দেখিয়ে একই গ্রামের প্রতিবেশী শহিদুল ইসলামকে সৌদি আরবে পাচার করেছেন আসামিরা। সৌদি নেওয়া বাবদ শহিদুলের কাছ থেকে মোট ৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
২০২২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শহিদুল সৌদি পৌঁছান। সেখানে তাঁকে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়। বলা হয়, আকামা (কাজের অনুমতিপত্র) নেই, তাই ঘরের বাইরে যাওয়া যাবে না। আকামা করে দেওয়ার জন্য আরও ২ লাখ টাকা দাবি করেন আসামিরা। শহিদুলের স্ত্রী অহিদা খাতুন (৩০) আসামিদের বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্বামীকে দেশে ফেরত পাঠাতে বলেন। কিন্ত আাসামিরা দেশে ফেরত পাঠাতে অস্বীকার করেন। পরে অহিদা খাতুন মানব পাচার আইনে মামলা করেন। চাপের মুখে শহিদুলকে দেশে পাঠানো হয়।
সোমবার দেওয়া রায়ে ৩ ভাইকে ৬ ধারায় ৭ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, ৭ ধারায় ৭ বছর কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং ৯ ধারায় ৫ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া রেশমাকে ৬ ধারায় ৫ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, ৭ ধারায় ৭ বছর কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং ৯ ধারায় ৫ বছর কারাদণ্ড ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।








