ভারতের রাজস্থান রাজ্যের দৌসার কাছে দিল্লি-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়েতে একটি স্লিপার বাস ট্রেলারের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে আগুন ধরে গেলে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ২২ জন আহত হয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে প্রায় আড়াইটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটি উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশ থেকে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে যাচ্ছিল। উচ্চগতিতে চলার সময় বাসটি প্রথমে একটি ট্রেলারের (বড় আকারের ট্রাক) সঙ্গে ধাক্কা খায়। এরপর বাস ও ট্রেলার দুটিতেই আগুন ধরে যায়।

ঘটনার ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, দুটি যানবাহন ভয়াবহ আগুনে পুড়ছে। এ সময় যাত্রীরা সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলেন। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বাসের ওপরের বার্থে থাকা কয়েকজন যাত্রী ছিটকে নিচে পড়ে যান। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন দগ্ধ হয়ে মারা যান। বাকি দুজনের মৃত্যু হয় মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নিহতদের অধিকাংশই দুর্ঘটনার সময় ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ শুরু করেন। আহতদের সবাইকে চিকিৎসার জন্য দৌসা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু।

দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বাসচালক হয়তো তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন। একই সঙ্গে বাসটির অতিরিক্ত গতিকেও সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার ব্রিগেডের সদস্যরা ঘটনাস্থলে দেরিতে পৌঁছান। এতে প্রাণহানি আরও বেড়েছে বলে তাঁদের দাবি। স্থানীয়দের ভাষ্য, আগুন লাগার প্রায় এক ঘণ্টা পর বাসে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বাসটির সংরক্ষণ কক্ষ সিগারেটের প্যাকেটে ভর্তি ছিল, যা দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছে এবং আহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।