পাকিস্তান হাইকমিশনারের বাসায় আগুন

ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে আগুন লাগার ঘটনার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) সৈয়দ মোহাম্মদ ফরহাদকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে তাঁকে সংযুক্ত করার কারণ হিসেবে অফিস আদেশে শুধু ‘প্রশাসনিক কারণ’ উল্লেখ করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার ডিএমপি কমিশনার মো. মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা এক আদেশে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফরহাদকে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করার কথা জানানো হয়। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে আগুন লাগে। এতে ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তাঁর স্ত্রী নাঈমা হায়দার। পরে তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নির্ভরযোগ্য সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, তাঁরা এখন স্থিতিশীল রয়েছেন এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের পর ডিসি ফরহাদ গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি কূটনৈতিক বাসভবন হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া সেখানে পুলিশের প্রবেশের সুযোগ নেই। তবে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ডিসি ফরহাদকে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করার বিষয়ে জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী বলেন, কেন তাঁকে সংযুক্ত করা হয়েছে বা তিনি গণমাধ্যমে কী বলেছেন, সে বিষয়ে তাঁর জানা নেই। অফিসিয়ালি কোনো তথ্য জানানো হলে পরে তা জানানো হবে।

তবে ডিএমপির সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, পাকিস্তান হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন লাগার পর বিষয়টি সময়মতো ডিএমপি সদর দপ্তরকে অবহিত করেননি ডিসি ফরহাদ। তাঁর প্রত্যাহারের সঙ্গে এ বিষয়টির কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সে বিষয়ে ডিএমপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি সৈয়দ মোহাম্মদ ফরহাদকে ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগের ডিসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল।