গত জুনে দেশে মূল্যস্ফীতির হার সামান্য কমলেও তা ৯ শতাংশের ওপরেই অবস্থান করছিল। উল্লেখ্য, এ নিয়ে টানা তিন মাস মূল্যস্ফীতির হার ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যস্ফীতির এই উচ্চহার প্রমাণ করে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকট কতটা গভীর এবং এটি নিয়ন্ত্রণে গৃহীত পদক্ষেপগুলো কতটা অপর্যাপ্ত।

মূল্যস্ফীতির হার ৯ শতাংশের বেশি থাকার অর্থ হলো, জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো আকাশচুম্বী রয়ে গেছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ব্যয় সংকোচন বেড়েছে। বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতি যখন উচ্চপর্যায়ে থাকে, তখন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির পিঠ দেওয়ালে ঠেকে যায়। চাল, ডাল, তেল, সবজিসহ নিত্যপণ্যের দামের লাগাম টেনে ধরা না গেলে সাধারণ মানুষের জীবনের টানাপোড়েনের অবসান ঘটবে না।

বাজারের লাগামহীন পরিস্থিতির পেছনে কেবল বৈশ্বিক মন্দা বা আমদানি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত আর খাটছে না। ভেতরের ক্ষতগুলো স্পষ্ট : বাজার সিন্ডিকেটের উপস্থিতি, দুর্বল তদারকি ব্যবস্থা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে ত্রুটি রয়ে গেছে। সরকারকে এ জায়গাগুলোতে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি যখন দীর্ঘস্থায়ী হয়, তখন তা কেবল সামগ্রিক অর্থনীতিকে নয়, নিম্নবিত্ত মানুষের পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে বাস্তবমুখী এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। যেমন, বাজার সিন্ডিকেট বা পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি গ্রহণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, উৎপাদন খরচ কমাতে জ্বালানি ও সার ব্যবস্থাপনায় ভর্তুকি ও সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি, টিসিবির মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড ও ওএমএস কার্যক্রমের আওতা বাড়িয়ে নিম্নবিত্তদের সরাসরি খাদ্য সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে। মূল্যস্ফীতির হার কমাতে সরকারের বিলাসবহুল বা কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় কমাতে হবে। এতে বাজারে অতিরিক্ত টাকার প্রবাহ কমবে। সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরাসরি টাকা ছাপিয়ে ঘাটতি পূরণ করার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে, কারণ এটি সরাসরি মূল্যস্ফীতির হার বাড়িয়ে দেয়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। দেশেও এর দাম কমালে তা মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। সাধারণ মানুষের স্বস্তির জন্য মূল্যস্ফীতির হার দ্রুত সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার বিকল্প নেই।