মাসকয়েক আগে আফ্রিকান নেশন্স কাপের একটি ম্যাচ দেখতে মরক্কোয় উড়ে গিয়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফ্রান্স অধিনায়ককে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মরক্কো অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি। প্রিয় বন্ধু হাকিমির জার্সি গায়ে চাপিয়ে সেদিন গ্যালারিতে বসে মরক্কোর সমর্থনে গলা ফাটিয়েছিলেন এমবাপ্পে। সেই দুই ‘জিগরি দোস্ত’ আজ ৯০ বা ১২০ মিনিটের জন্য বন্ধুত্বের কপাটে তালা দিয়ে মরণপণ লড়াইয়ে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে যাবেন। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় বোস্টনে বিশ্বকাপের প্রথম ব্লকবাস্টার কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে এমবাপ্পের ফ্রান্স ও হাকিমির মরক্কো। ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে ২-০ গোলে হেরে মরক্কোর স্বপ্নযাত্রা থেমেছিল। নিয়তি এবার দুই বন্ধুকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে শেষ আটে। এবার এমবাপ্পেকে কাঁদিয়ে প্রতিশোধ নিতে মুখিয়ে আছেন হাকিমি।
রিয়াল মাদ্রিদে পাড়ি জমানোর আগে পিএসজিতে এমবাপ্পের প্রিয় সতীর্থ ছিলেন হাকিমি। তাদের বন্ধুত্ব আজও অটুট। হাকিমি থাকেন এমবাপ্পের শহর প্যারিসে। আর এমবাপ্পে থাকেন হাকিমির জন্ম শহর মাদ্রিদে। মরক্কোর অধিকাংশ ফুটবলারেরই জন্ম ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। বিশ্বকাপে টানা তৃতীয় ফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে মরক্কোর রক্ষণভাগের সেনাপতি হাকিমির বিপক্ষে ব্যক্তিগত দ্বৈরথে জিততে হবে ফ্রান্সের আক্রমণভাগের সেনাপতি এমবাপ্পেকে। ফর্মের বিচারে হাকিমির কাজটাই বেশি কঠিন। পাঁচ ম্যাচে সাত গোল করা এমবাপ্পে আছেন স্বপ্নের ফর্মে। তাকে দারুণ সঙ্গ দিচ্ছেন দেম্বেলে, ওলিসে, দুয়েরা।
এবারের আসরে পাঁচ ম্যাচের সবকটি জেতা ফ্রান্সের বিপক্ষে আগের ছয় ম্যাচে কোনো জয় না থাকলেও নিজেদের পিছিয়ে রাখতে নারাজ আফ্রিকার নতুন সূর্য মরক্কো। গ্রুপপর্বে ব্রাজিলকে আটকে দেওয়ার পর নকআউটে নেদারল্যান্ডস ও কানাডাকে বিদায় করে আফ্রিকার একমাত্র দেশ হিসাবে তাদের শেষ আটে পা রাখা কোনো ফ্লুক নয়। প্রথম আফ্রিকান দল হিসাবে গতবার সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়া আটলাসের সিংহরা এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। যার কোচিংয়ে গত বছর অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জিতেছিল মরক্কো, সেই মোহামেদ ওয়াহবি এখন জাতীয় দলের দায়িত্বে। ফ্রান্সের মতো প্রতাপশালী প্রতিপক্ষকেও ভয় পাচ্ছেন না ওয়াহবি, ‘মরক্কো এখন আর বিশ্বকাপের বিস্ময় নয়। আমরা কাউকে ভয় পাই না। যে কোনো দলের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়তে প্রস্তুত আমরা। ফ্রান্সকে সমীহ করেই বলছি, বিশ্বকাপে আমরা শেষ ধাপ পর্যন্ত যেতে পারি।’
মরক্কোর পাসিং ফুটবল ও ক্ষুরধার প্রতিআক্রমণকে বড় হুমকি হিসাবেই দেখছে ফ্রান্স। এমবাপ্পেদের সহকারী কোচ গি স্টিফোঁর বলেছেন, ‘মরক্কো খুবই সংগঠিত ও গোছাল দল। প্রতিআক্রমণে তারা বিপজ্জনক। সব পজেশনেই ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দেখানোর মতো খেলোয়াড় আছে তাদের।’







