মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের (পিএটিআই) বিরুদ্ধে অভিযানে এবার ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাফল্য পেয়েছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম)। ড্রোন উড়িয়ে নজরদারির মাধ্যমে পালিয়ে যাওয়া ও আত্মগোপনের চেষ্টা করা একদল বিদেশির অবস্থান শনাক্ত করে ৩২ জনকে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (২৬ জুন) সেলাঙ্গরের পুচং এলাকার তামান কিনরারা বাণিজ্যিক এলাকায় মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ এবং অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়ের যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

আরও পড়ুন

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ আটক ৩০ অভিবাসী

জেআইএম এক বিবৃতিতে জানায়, অভিযানে সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে ড্রোন ব্যবহারের ফলে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা পালানোর সম্ভাব্য পথ ও লুকিয়ে থাকার স্থান দ্রুত শনাক্ত করতে সক্ষম হন। এতে বিদেশিদের পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং নিরাপদ ও পরিকল্পিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়।

দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া এ অভিযানে জেআইএমের এনফোর্সমেন্ট বিভাগের ৪৬ জন কর্মকর্তা এবং কেপিডিএনের পুত্রাজায়া কার্যালয়ের সাতজন কর্মকর্তা অংশ নেন।

অভিযানে ১৮টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মোট ১১৭ জনের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ২২ থেকে ৪৩ বছর বয়সী ৩২ জন নাগরিককে আটক করা হয়।

তাদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩-এর বিভিন্ন ধারায় আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া তদন্তে সহযোগিতার জন্য চারজন মালয়েশিয়ান নাগরিকের বিরুদ্ধে ফরম-২৯ (সমন) জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেপিডিএন অ্যান্টি-প্রফিটিয়ারিং অ্যাক্ট ২০১১-এর আওতায় তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিককে মোট ৬০০ রিঙ্গিত জরিমানা করেছে।

আরও পড়ুন

মালয়েশিয়ায় ১১৮ বাংলাদেশি আটক

আটক হওয়া সব বিদেশিকে পরবর্তী তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য অভিবাসন আটক কেন্দ্রে (ইমিগ্রেশন ডিপো) পাঠানো হয়েছে।

জেআইএম জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ, আশ্রয় বা সুরক্ষা প্রদানকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

এমএমকে