বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার নাটকীয় জয়ের পর দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো রাজধানীর টিএসসিতেও উৎসবে মেতে ওঠেন সমর্থকেরা। সেই আনন্দ মিছিলে যোগ দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন অভিনেতা মিশা সওদাগরের স্ত্রী জোবায়দা রব্বানী মিতা। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ব্রাজিল সমর্থক স্বামীকে নিয়ে মজার ছলে মন্তব্য করেছেন, যা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আর্জেন্টিনা-মিসরের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচটি রাজধানীর উত্তরার নিজ বাসায় দেখেন জোবায়দা রব্বানী মিতা। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আর্জেন্টিনার বিজয় আনন্দ ভাগ করে নিতে সরাসরি টিএসসিতে চলে যান বলে জানিয়েছেন এই তারকাপত্নী।

ঘটনার বর্ণনা করে জোবায়দা রব্বানী মিতা বলেন, “আমি বাসায় খেলা দেখেছি। আর্জেন্টিনা জেতার পর ডিসিশন নিলাম টিএসসিতে চলে আসব। আনন্দে যোগদান করার জন্য আমি চলে আসছি। আপনাদের মিশা ভাই দেখি চুপ। হি ইজ দ্য সাপোর্টার অব ব্রাজিল।”

ম্যাচের সময় নিজের উদ্বেগের কথা অকপটে জানান জোবায়দা রব্বানী মিতা। দুই গোল হজম করার পর তার মনে হচ্ছিল, হয়তো আর্জেন্টিনার পথচলাই শেষ হতে যাচ্ছে। তখন প্রিয় দলের জন্য দোয়া করছিলেন তিনি। এ বিষয়ে জোবায়দা রব্বানী মিতা বলেন, “আমি রুম থেকে বেরিয়ে গেছি। এই হেরে যাব মনে হয়, এই মেসি শেষ মনে হয়! এই আর্জেন্টিনা মনে হয় শেষ। নামাজে দোয়া করছিলাম, আল্লাহ কিছু একটা করো।”

তবে শেষ পর্যন্ত টানা তিন গোল করে আর্জেন্টিনা ম্যাচে ফিরতেই বদলে যায় মিতার সব অনুভূতি। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, “অবিশ্বাস্য! বড় টিম এবং মেসি আবার প্রমাণ করলো, মেসি মেসি-ই। ইনশাআল্লাহ আর্জেন্টিনা ওয়ার্ল্ডকাপ আবার জিতবে।”

স্বামী-স্ত্রীর ফুটবল সমর্থন দুই মেরুর। ব্রাজিল সমর্থক মিশা সওদাগরের সঙ্গে ফুটবল নিয়ে মজার খুনসুটি প্রায়ই হয়। আগের ম্যাচে আর্জেন্টিনা পিছিয়ে পড়ার সময় মিশা সওদাগর তাকে খোঁচা দিলেও শেষে জয় পাওয়ার পর পাল্টা জবাব দিতেও ভোলেননি। জোবায়দা রব্বানী মিতা বলেন, “সে বলছে তারা সেভেন আপ গ্রুপ। আমরা দেখায়ে দিছি আমরা পারি। জিতে গেছি।”

আর্জেন্টিনার প্রতি জোবায়দা রব্বানী মিতার সমর্থন নতুন নয়। ম্যারাডোনার সময় থেকেই আর্জেন্টিনার সমর্থক। আর মেসি জাতীয় দল থেকে বিদায় নিলেও তার সমর্থন বদলাবে না। ব্রাজিল সমর্থক স্বামী মিশা সওদাগরকে উদ্দেশ করে হাস্যরসের সুরে জোবায়দা রব্বানী মিতা বলেন, “এখনো সময় আছে, ব্রাজিল ছাড়ো, দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনায় আসো।”

ফুটবলকে ঘিরে এমন বন্ধুত্বপূর্ণ খুনসুটি নতুন কিছু নয়। ক্রীড়া-মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রিয় দলকে ঘিরে সমর্থকদের আবেগ, উচ্ছ্বাস ও পারিবারিক মজার মুহূর্ত খেলাধুলার সামাজিক সংস্কৃতিরই একটি অংশ। প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমর্থকদের মধ্যে রসিকতা ও ঠাট্টা-তামাশা থাকলেও তা পারস্পরিক সম্মান ও সৌহার্দ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকাই খেলাধুলার প্রকৃত সৌন্দর্য।