আর্জেন্টিনা-মিসর মুখোমুখি হয়ে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে ফেলেন ফুটবলপ্রেমীদের। যদিও এই গল্পের শেষটা সবাইকে চমকে দিয়েছে। ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা ম্যাচটি জিতেছে ৩-২ গোলে। দলটির অবিশ্বাস্য এই প্রত্যাবর্তন বিস্মিত করেছে বিশ্বাসীকে।  

আর্জেন্টিনা দলের দৃঢ় মনোবল, অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স দেখে উজ্জীবিত দলটির সমর্থকরা। এ তালিকায় রয়েছেন ভারতীয় বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য। কেবল উচ্ছ্বসিত নন, জীবনের বড় শিক্ষাও এই ম্যাচ থেকে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন ‘প্রাক্তন’খ্যাত এই অভিনেত্রী।   

বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন অপরাজিতা আঢ্য। শুরুতে তার দাদির একটি বক্তব্য স্মরণ করে বলেন, “আমার দিদিমা একটা কথা বলতেন—“গাইতে গাইতে যার গলায় সুর নেই, সেও একদিন একটু একটু গাইতে শিখে যায়।” আজ বুঝি, কথাটা শুধু গান নয়, জীবনেরও।”  

আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচ থেকে বড় শিক্ষা গ্রহণ করেছেন অপরাজিতা আঢ্য। তা জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, “আমি ফুটবলের মানুষ নই। অফসাইড, প্রেসিং, ফলস নাইন, উইং—এসব এখনো পুরো বুঝি না। কিন্তু খেলাটা দেখতে ভালোবাসি। আর দেখতে দেখতে, ভালোবাসতে ভালোবাসতেই, খেলার ভাষাটাও একটু একটু করে শিখে ফেলেছি। তাই আজকের আর্জেন্টিনা–ইজিপ্ট ম্যাচ শুধু একটা ফুটবল ম্যাচ হয়ে রইল না, জীবনের একটা বড় শিক্ষা হয়ে গেল।” 

ফুটবল মাঠে লিওনেল মেসির মানসিক অবস্থা স্মরণ করে অপরাজিতা আঢ্য বলেন, “জীবনে যখনই সংকট আসে, আমি ভয় পাই। মনে হয়—এবার বুঝি আর পারব না। বুকের ভেতর অস্থিরতা জমে, ঈশ্বরকে ডাকি, কাঁদি। সেই মুহূর্তে সহজ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না, হাসতে তো আরো পারি না। কিন্তু লিওনেল মেসিকে যত দেখি, তত একটা জিনিস শিখি।” 

সংকটেও মেসির মনোবল ও হাসি ধরে রাখার আত্মবিশ্বাসে মুগ্ধ অপরাজিতা আঢ্য। তার ভাষায়—“আজও যখন আর্জেন্টিনা ২-০ পিছিয়ে, চারপাশের মানুষ প্রায় বিশ্বাস করেই ফেলেছে—এবার হয়তো বিশ্বকাপ শেষ, তখনো মেসির মুখে আতঙ্কের চিহ্ন ছিল না। ছিল এক শিশুর মতো শান্ত হাসি। সেই হাসিটা যেন বলছিল—‘শেষ বলে কিছু হয় না। শেষ মানেই, নতুন শুরুর অপেক্ষা’। আর তারপরই ঘটল সেই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন। শেষের কয়েক মিনিটে তিনটি গোল। যে ম্যাচ হার নিশ্চিত মনে হচ্ছিল, সেটাই জয়ে বদলে গেল।” 

মহান নেতৃত্ব মানে সব আলো নিজের ওপর টেনে নেওয়া নয় বলে মনে করেন অপরাজিতা আঢ্য। তার প্রমাণ দিয়েছেন লিওনেল মেসি। এ অভিনেত্রীর ভাষ্য, “আজ আর একটা জিনিস শিখলাম। আমরা সবাই নিজের জায়গাটা আঁকড়ে ধরে রাখতে চাই। নিজের কমফোর্ট জোন ছাড়তে চাই না। কারণ সেখানে নিরাপত্তা আছে, আত্মবিশ্বাস আছে। কিন্তু বড় মানুষেরা জানেন, কখন নিজের জায়গা একটু ছেড়ে দিতে হয়। কখন সতীর্থকে সামনে এনে, তাকে বিশ্বাস করে, তাকে উজ্জ্বল হওয়ার সুযোগ করে দিতে হয়। মহান নেতৃত্ব মানে সব আলো নিজের ওপর টেনে নেওয়া নয়; অনেক সময় অন্যের জন্য আলো জ্বালিয়ে দেওয়া। জীবনের খেলাতেও তাই। সব গোল নিজেকে করতে হবে না। সব কৃতিত্ব নিজের হতে হবে না। কখনো কখনো অন্যকে জায়গা করে দেওয়াটাই সবচেয়ে বড় জয়।” 

সংকটে ভয় না পাওয়ার শিক্ষা গতকালের ফুটবল ম্যাচ থেকে শিখেছেন অপরাজিতা আঢ্য। তিনি বলেন, “আজকের ম্যাচ আমাকে শিখিয়ে দিল—সংকটকে ভয় পেয়ো নয়, তাকে সাক্ষী রেখে বাঁচতে হয়। যে মানুষ ঝড়ের মাঝেও হাসতে পারে, ব্যর্থতার পরেও বিশ্বাস হারায় না, নিজের অহং সরিয়ে দলকে বড় করে দেখতে পারে—তার পাশে একসময় ভাগ্যও দাঁড়ায়, ঈশ্বরও দাঁড়ান। হয়তো সেই কারণেই বলা হয়—ঈশ্বর কোথাও দূরে নন। যে মানুষ নিজের ভয়কে জয় করে, অন্যকে জিততে শেখায়, অন্ধকারেও আশার আলো জ্বালিয়ে রাখে—ঈশ্বর তার মধ্যেই প্রকাশ পান।” 

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করলে জীবনের হিসাব-নিকাশও বদলে যায়। আর এই শিক্ষাটি গতকাল মেসির কাছে থেকে শিখেছেন অপরাজিতা আঢ্য। তিনি বলেন, “আজকের ম্যাচে আমি শুধু আর্জেন্টিনার জয় দেখিনি। আমি দেখেছি—হাসি দিয়ে ভয়কে হারানো যায়, বিশ্বাস দিয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়, আর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করলে জীবনও কখনো কখনো নিজের স্কোরলাইন বদলে দেয়।”