লুকা মদরিচ বিশ্বমানের একজন ফুটবলার। শুধু বিশ্বমানের বললে হয়তো কম বলা হবে, তিনি ফুটবলের একজন শিল্পী। আধুনিক ফুটবলকে অনেকেই শুধু শক্তি, গতি আর শারীরিক সক্ষমতার খেলা মনে করেন। কিন্তু মদরিচ দেখিয়ে দিয়েছেন, ফুটবল আসলে বুদ্ধি, সৃজনশীলতা, নিখুঁত পাস আর খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণেরও খেলা। ছোটখাটো গড়নের একজন ফুটবলার হয়েও কীভাবে বছরের পর বছর বিশ্বের সেরা মিডফিল্ডারদের একজন হয়ে থাকা যায়, সেটি দেখিয়েছেন মদরিচ।

রিয়াল মাদ্রিদে দীর্ঘদিন একসঙ্গে খেলেছেন। বিশ্বমঞ্চে পর্তুগালের বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচে দুজন ছিলেন প্রতিপক্ষ। সেই ম্যাচে রোনাল্ডোর কাছে হেরে গেলেন মদরিচ। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও লুকা মদরিচ-দুজনের কাছ থেকেই নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের অনেক কিছু শেখার আছে। এটাই পেশাদার ফুটবলের সৌন্দর্য। প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বন্ধুত্ব ও শ্রদ্ধাবোধ কীভাবে একসঙ্গে ধরে রাখতে হয়, এর উজ্জ্বল উদাহরণ তারা। দুজনের ফুটবলীয় গুণও ভিন্ন; কিন্তু সমান মুগ্ধতার। মদরিচের পায়ের কারুকাজ, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ, নিখুঁত পাস আর রোনাল্ডোর দুর্দান্ত ফিনিশিং-সব মিলিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর আস্থার জায়গা হয়ে আছেন। তাদের খেলা দেখতে মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করত।

পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচ ছিল বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা লড়াই। দুই দলই দারুণ ফুটবল খেলেছে। ম্যাচের মান, উত্তেজনা, ট্যাকটিক্যাল দিক-সব মিলিয়ে এটি অনেকদিন মনে রাখার মতো। পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। সমালোচনা হচ্ছিল। বয়স নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু বড় মঞ্চে আবারও তিনি দেখিয়ে দিলেন, এখনো ফুরিয়ে যাননি। বড় ম্যাচে নিজের প্রভাব তৈরি করার সামর্থ্য তার এখনো অটুট। ক্রোয়েশিয়া সত্যিই দুর্ভাগা। গোল করা ছাড়া প্রায় সব দিকেই তারা ভালো খেলেছে। বল পোস্টে লেগেছে, কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট করেছে। স্ট্রাইকিং জোনে গিয়ে যেভাবে সুযোগ হাতছাড়া করেছে, তা মেনে নেওয়া কঠিন। শেষ মুহূর্তে ভিএআরে গোল বাতিল হওয়াটাও তাদের জন্য বড় ধাক্কা। ভাগ্য একটু সহায় হলে ফল অন্যরকম হতে পারত। ক্রোয়েশিয়া বারবার প্রমাণ করেছে, তারা বিশ্বকাপ জেতার সামর্থ্য রাখে। তাদের অনেক ফুটবলার ইউরোপের বড় বড় লিগে খেলেন। টেকনিক, মানসিক দৃঢ়তা আর দলীয় শৃঙ্খলার কারণে তারা বিশ্বের অন্যতম সম্মানিত দল হয়ে উঠেছে। গত কয়েকটি বিশ্বকাপে তাদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তারই প্রমাণ।

পর্তুগালের জন্য কঠিন ম্যাচ হবে স্পেনের বিপক্ষে। এটাই হয়তো বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচ হয়ে থাকবে। স্পেনও শেষ ৩২-এ দেখিয়েছে তাদের সামর্থ্য। তারা জানে, কীভাবে এগোতে হবে। আজ শেষ ১৬র লড়াই শুরু হতে যাচ্ছে। মরক্কো ও কানাডা মাঠে নামবে। স্বাগতিক হিসাবে কানাডা ভালো খেলছে। আর মরক্কো খুবই গতিশীল একটি দল। এখানে মরক্কোই এগিয়ে থাকবে। আরও এক জায়ান্ট ফ্রান্স মাঠে নামবে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে। ফ্রান্সকে আটকাতে হলে প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগকে চীনের প্রাচীর তৈরি করতে হবে। এখন থেকে প্রতি ম্যাচের লড়াই হবে আরও বেশি উত্তেজনাকর।