চট্টগ্রামো বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলায় বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার সকাল থেকে বিকাল অবধি কোথাও হাঁটুপানি কোথাও কোমরপানি ভেঙে দুর্গতদের হাতে তুলে দেন ত্রাণসামগ্রী ও নগদ অর্থ। তিনি চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবরও নেন। এছাড়া তিনি চট্টগ্রাম বিভাগে পাহাড়ধসে ও পানিতে ভেসে গিয়ে নিহতদের পরিবারপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের ঘোষণা দেন।

শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে তিনি সরাসরি বাঁশখালী উপজেলার কালিপুর ইউনিয়নে বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় যান। সেখানে পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। উপকূলীয় উপজেলা বাঁশখালীর বিভিন্ন ইউনিয়নে কয়েক হাজার কাঁচাঘর পানির নিচে তলিয়ে যায়।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের এমপি শাহজাহান চৌধুরী, মুহাম্মদ শাহজাহান, চট্টগ্রাম টিম সদস্য জাফর সাদেক, বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (ভূমি) ওমর সানি আকন, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল হক, ডাকসু জিএস এসএম ফরহাদ, দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ বদরুল হক এবং শামসুজ্জামান হেলালীসহ জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ।

সাতকানিয়ায় পরিদর্শন : চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। এই উপজেলার অধিকাংশ মাঠঘাট ও বাড়িঘর শুক্রবার পানির তলে ছিল। জামায়াতের আমির সকাল সাড়ে ১০টায় সাতকানিয়া উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এখানে তিনি ত্রাণসামগ্রী ও নগদ টাকা প্রদান করেন।