বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) গবেষক ও পরিকল্পনা শাখার পরিচালক ড. মো. আমিরুল ইসলাম বলেছেন, “ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ পরিবেশ দূষণ। শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্যে নদীর পানি দূষিত হওয়ায় ইলিশের অভয়াশ্রম ও প্রজননক্ষেত্রগুলো হুমকির মুখে পড়েছে।”
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের রূপালি ইলিশ: অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।
ড. আমিরুল ইসলাম বলেন, “সম্প্রতি ইলিশের উৎপাদন কমতে শুরু করায় বিদ্যমান ব্যবস্থাপনা নীতিগুলো জরুরি ভিত্তিতে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। ইলিশ উৎপাদন কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ পরিবেশ দূষণ। বিশেষ করে শীতলক্ষ্যা ও মেঘনা নদীর তীরবর্তী শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে ১ নম্বর অভয়াশ্রমে বিপুলসংখ্যক মাছ মারা যাচ্ছে।”
“পরিবেশ দূষণের কারণ ও এর সমাধান সম্পর্কে জানা থাকলেও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করায় পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। ইলিশসহ মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে”, যোগ করেন তিনি।
বাকৃবিতে জাতীয় মৎস্য পক্ষের র্যালি
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. আলী রেজা ফারুক। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএফআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলাম এবং মৎস্য অধিদপ্তর, ময়মনসিংহ বিভাগের পরিচালক নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।
ইলিশের অতীতের প্রাপ্যতা ও বর্তমানে এর পরিমাণ কমে যাওয়ার কারণ তুলে ধরে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক জোয়ার্দ্দার ফারুক আহমেদ ও অধ্যাপক হারুনুর রশিদ।
অধ্যাপক মো. আলী রেজা ফারুক বলেন, “ইলিশ ও স্যামন প্রজাতির মাছ প্রতিকূল পরিবেশ ও হিংস্র শিকারির নানা ঝুঁকি মোকাবিলা করে হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে জন্মস্থানে ফিরে আসে ডিম ছাড়ার জন্য। এই প্রাকৃতিক জীবনচক্র সচল রাখতে কৃত্রিম ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই। বৈজ্ঞানিক গবেষণার পাশাপাশি সঠিক ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর নীতিমালার মাধ্যমে তাদের বিচরণের পথ নিরাপদ করা গেলে ইলিশের উৎপাদন বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।”
এর আগে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টায় মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ থেকে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালি বের হয়। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে ব্রহ্মপুত্র নদে কার্পজাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।
ব্রহ্মপুত্র নদে কার্পজাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম সরদার, প্রক্টর অধ্যাপক মো. আবদুল আলীম, বিএফআরআইয়ের কর্মকর্তাসহ মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
পোনা অবমুক্তকরণ শেষে উপাচার্য অধ্যাপক এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, “মাঠ পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য নিজেদের পর্যাপ্ত জ্ঞানে সমৃদ্ধ ও প্রস্তুত হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। মৎস্যজাত পণ্যের সতেজতা বহুবিধ সূচকের ওপর নির্ভর করে, যা বিশেষজ্ঞদের জন্য অনুধাবন করা সহজ। তবে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে আমাদের এমন একটি সহজ ও একক নির্দেশক (ফ্যাক্টর) উদ্ভাবনের দিকে নজর দেওয়া উচিত, যা দেখে বিষদ জ্ঞান ছাড়াই যেকোনো মানুষ এক পলকেই মাছের সতেজতার নিখুঁত মাত্রা সহজে বুঝে নিতে পারে।”







