একসময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ছিল বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির বিষয়। আজ সেটি বাস্তব। আমরা অনেকে না বুঝেই প্রতিদিন এআই ব্যবহার করছি। মোবাইল ফোনে ভয়েস কমান্ড দেওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পছন্দের ভিডিও দেখা, অনলাইনে কোনো পণ্য খুঁজে পাওয়া কিংবা একটি লেখা তৈরি করা-এসবের পেছনে কাজ করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। প্রযুক্তির এই অগ্রযাত্রা মানুষের জীবনকে সহজ করেছে, সময় বাঁচিয়েছে এবং কাজের গতি বাড়িয়েছে। তবে প্রতিটি নতুন প্রযুক্তির মতো এরও দুটি দিক রয়েছে। একদিকে এটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে, অন্যদিকে অসচেতন ব্যবহার এবং সাইবার অপরাধ নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। তাই এখন প্রয়োজন প্রযুক্তিকে গ্রহণ করার পাশাপাশি নিরাপদ ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলা। একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে, এআই কখনো চিন্তাশক্তির বিকল্প নয়। যদি শিক্ষার্থীরা নিজেরা না বুঝে এআই’র দেওয়া উত্তর হুবহু ব্যবহার করে, তাহলে তাদের বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও সৃজনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এআইকে ব্যবহার করতে হবে শেখার সহায়ক হিসাবে, শর্টকাট হিসাবে নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; এটি মানুষের সক্ষমতাকে আরও বাড়িয়ে তোলার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। যে সমাজ প্রযুক্তিকে জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিকতার সঙ্গে ব্যবহার করতে পারবে, সেই সমাজই এগিয়ে থাকবে।
মোহাম্মদ ইসহাক. ঈশ্বরগঞ্জ, ময়মনসিংহ




