পণ্যের বাজার নিয়ে লিখতে হলে অবধারিতভাবে চলে আসে একটি শব্দ : সিন্ডিকেট। বছরের পর বছর শব্দটি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়, বিশ্লেষকদের মন্তব্যে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের মুখে নিরবচ্ছিন্নভাবে উচ্চারিত হয়ে আসছে। অথচ এক রহস্যময় কারণে সিন্ডিকেট রাজত্বের কিছুই হচ্ছে না।

দেশে এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। সরকারি গুদামেও রয়েছে পর্যাপ্ত মজুত। ওদিকে মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাজেটে চালের শুল্ক-কর রেয়াত পেয়েছে। এই ৩ অনুকূল শর্ত সত্ত্বেও বাজারে কমছে না চালের দাম। এ পরিস্থিতির কারণ কী? এক কথায় উত্তর-সিন্ডিকেটের কারসাজি। এটা মিলারের সিন্ডিকেট। নানা প্রাকৃতিক প্রতিকূলতায় ঘাম ঝরানো পরিশ্রমে কৃষক ধান ফলিয়েছে, অথচ তার ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। ধানের রূপান্তর চাল, এই চাল বিক্রিতে চরম নিষ্ঠুরতায় হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত মুনাফা। মিল গেট থেকে পাইকারি হয়ে খুচরা বাজারে চালের দামে ব্যবধান হয়ে যাচ্ছে দ্বিগুণ। এটা এক বড় প্যারাডক্স, চড়ামূল্যে চাল কিনতে বাধ্য হচ্ছে ক্রেতা, অথচ সেই বাড়তি অর্থের ভাগ পাচ্ছে না উৎপাদক। অর্থাৎ একসঙ্গে দুটি শ্রেণি ঠকে চলেছে-কৃষক ও ভোক্তা। মাঝখানে ফুলে-ফেঁপে উঠছে সিন্ডিকেট, তথা মধ্যস্বত্বভোগী।

কেন এই অবিচার? এই অবিচারের কি শেষ নেই? সব পণ্যেরই সিন্ডিকেটগুলো দৃষ্টির অগোচরে নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তো বটেই, কৃষক সমাজও চেনে তাদের। অথচ দৃশ্যমান সিন্ডিকেটবাজির বিরুদ্ধে কিছু করা যাচ্ছে না। ফলে একটা প্রশ্ন তো ওঠাই স্বাভাবিক-সিন্ডিকেটগুলো কি সরকারের চেয়েও শক্তিশালী? ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, চালের বাজার স্বাভাবিক রাখতে তদারকি অব্যাহত রয়েছে। তারা নাকি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযানও পরিচালনা করে থাকেন! প্রশ্ন হলো, কীসের তদারকি? কীসের অভিযান? অভিযান ও তদারকি যদি থাকে, তাহলে মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না কেন? শ্রুতিমধুর কথা আমাদের আর কত শুনতে হবে? এসব কথা শুনতে শুনতে আমাদের কান ঝালাপালা হয়ে গেছে। আমরা আর কথা শুনতে চাই না, কাজ দেখতে চাই। চালের বাজার স্বাভাবিক করুন। কীভাবে করবেন, সেটা আপনাদের ব্যাপার।