কলম্বিয়াকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে সুইজারল্যান্ড। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গোলশূন্য ড্র থাকার পর ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় টাইব্রেকারে। ১৯৫৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের শেষ আটে উঠলো সুইসরা।

ঐতিহাসিক এই সাফল্যের পর আবেগাপ্লুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সুইজারল্যান্ডের প্রধান কোচ মুরাত ইয়াকিন। তিনি বলেন, ‘এখনও পুরো বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারছি না। আমরা যেন এখনও ম্যাচের আবহের মধ্যেই আছি। আজ অসাধারণ লড়াই, বুদ্ধিমত্তা ও ধৈর্যের প্রয়োজন ছিল। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সমর্থকদের জন্য আমি ভীষণ খুশি। এটি ভাষায় প্রকাশ করার মতো অনুভূতি নয়।’

ম্যাচের কৌশল নিয়েও কথা বলেন ইয়াকিন। তিনি জানান, কিছু বদলি খেলোয়াড়কে বিশেষভাবে টাইব্রেকারের কথা মাথায় রেখেই নামানো হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত সফল হয়।

কোচ বলেন, ‘শুরুর দিকে ম্যাচে মানসিক দৃঢ়তা ও লড়াইয়ের প্রয়োজন ছিল। পরে কিছু পরিবর্তন এনে আমরা বলের নিয়ন্ত্রণ বাড়াই। টাইব্রেকারের জন্যও উপযুক্ত খেলোয়াড়দের মাঠে রাখার পরিকল্পনা ছিল। পরিকল্পনা সফল হলে আনন্দটা আরও বেশি হয়।’

টাইব্রেকারে কলম্বিয়ার হয়ে দাভিনসন সানচেস ক্রসবারে বল মারেন এবং কুচো হার্নান্দেসের শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের একমাত্র মিস করেন ম্যানুয়েল আকাঞ্জি।

শেষ পেনাল্টি থেকে রুবিন ভার্গাস জয়সূচক গোল করার মুহূর্তের অনুভূতি বর্ণনা করতে গিয়ে ইয়াকিন বলেন, ‘শেষ শটের আগে মাথার মধ্যে অসংখ্য দৃশ্য ঘুরছিল। বল জালে জড়াতেই যেন সবকিছু বিস্ফোরিত হলো। সবাই একসঙ্গে উদযাপন করল। এটি সত্যিই অসাধারণ এক অনুভূতি, যা ভাষায় বোঝানো কঠিন।’

কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা, যারা শেষ ষোলোতে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে। দুই দলের মধ্যকার ম্যাচটি আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হবে। জয়ী দল উঠবে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে।

আরআর/এমএমআর