চার ম্যাচে ৯ গোল, একটিও গোল হজম নয়। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন যেন ধীরে ধীরে নিজের ভয়ংকর রূপে ফিরছে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে হতাশাজনক ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করা দলটি এখন টানা তিন ম্যাচে প্রতিপক্ষের দম কার্যত দম বন্ধ করে দিয়েছে। শেষ বত্রিশে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর তাই শিরোপাপ্রত্যাশীদের তালিকায় স্পেনের নাম আরও জোরালোভাবেই উচ্চারিত হচ্ছে।
তবে এখনই এ নিয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসছে না স্পেন। পা মাটিতে রেখেই ম্যাচ ধরে ধরে এগিয়ে যেতে চান স্পেন দলের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তাঁর বিশ্বাস, আত্মতৃপ্তি থেকেই পতনের শুরু।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে বলের দখল, আক্রমণ, সুযোগ সৃষ্টি—সব পরিসংখ্যানেই ছিল স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্য। ২৩টি শট নিয়ে ১০টি লক্ষ্যে রাখে তারা। অন্যদিকে অস্ট্রিয়া পুরো ম্যাচে উনাই সিমোনকে একবারও পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। গোল করেন মিকেল ওইয়ারসাবাল দুটি, আর একটি পেদ্রো পোরো। দাপুটে এই জয়ের পরও উচ্ছ্বাসে গা না ভাসিয়ে নিজেদের দলে উন্নতির জায়গা দেখছেন দে লা ফুয়েন্তে, ‘খুশি হওয়ার অনেক কারণ আছে। শুধু জয়ের জন্য নয়, যেভাবে খেলেছি, সেটার জন্যও। কিন্তু এখনো আমাদের অনেক উন্নতি করতে হবে। অনেকে হয়তো মনে করছেন, স্পেনের সেরাটা দেখে ফেলেছেন। আমি তা মনে করি না। এই দল এখনো নিজের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়নি।’
স্পেন কোচের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ অবশ্য অন্য জায়গায়। তাঁর মতে, নকআউট পর্বে সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রতিপক্ষ অনেক সময় নিজেরাই। কীভাবে? দে লা ফুয়েন্তে বললেন, ‘যখন সবাই আপনার প্রশংসা করবে, আর আপনি সেটা বিশ্বাস করতে শুরু করবেন, তখনই আপনি দুর্বল হয়ে পড়বেন। আত্মতৃপ্তি আপনার সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে।’
দে লা ফুয়েন্তের এই সতর্কবার্তার পেছনে যথেষ্ট কারণও আছে। স্পেন এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে প্রতিটি ম্যাচই ফাইনালের মতো। সামনে প্রতিপক্ষ পর্তুগাল, এরপর হয়তো আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। ফলে প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের নতুন করে প্রমাণ করাই এখন লক্ষ্য।
তবে স্পেন দলে টইটম্বুর আত্মবিশ্বাস। যার প্রতিচ্ছবি দেখা গেছে লামিনে ইয়ামালের কথায়। অস্ট্রিয়াকে হারানোর পর ১৮ বছর বয়সী এই তারকা স্পষ্ট ভাষাতেই জানিয়ে দিয়েছেন, স্পেন কাউকে ভয় পায় না। তাঁর ভাষায়, ‘এখন হারলেই বিদায়। তাই বিশ্রাম নিয়ে পরের ম্যাচের প্রস্তুতি নিতে হবে। আমরা উন্নতি করে যেতে চাই। আমরা কোনো দলকে ভয় পাই না।’
শেষ পর্যন্ত পর্তুগালই প্রতিপক্ষ হয়েছে। আর তাতে ইয়ামালের জন্য যোগ হয়েছে বিশেষ এক উপলক্ষও। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচ। রোনালদোর বিপক্ষে খেলাটাকে সম্মানেরই মনে করেন। শেষ ষোলোর সেই ম্যাচ জেতা তো বটেই, ইয়ামালের লক্ষ্য আরও বড়। সেটি কী? ইয়ামাল বলে গেলেন, ‘বিশ্বকাপ জেতাই সবচেয়ে বড় অর্জন। ছোটবেলায় সবাই এই স্বপ্নই দেখে। আমাদেরও লক্ষ্য একটাই—শেষ পর্যন্ত যাওয়া এবং বিশ্বকাপ জয়।’
স্পেনের শক্তির সবচেয়ে বড় জায়গা এখন ভারসাম্য। আক্রমণে ওইয়ারসাবাল, ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস কিংবা পেদ্রিদের সৃজনশীলতা যেমন আছে, তেমনি রক্ষণে উনাই সিমোনদের দৃঢ়তা। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আরেকটি ক্লিন শিট রেখে বিশ্বকাপে টানা সর্বোচ্চ সময় গোল না খাওয়ার স্প্যানিশ রেকর্ডও গড়েছেন সিমোন। চার ম্যাচে একটিও গোল না খাওয়া স্পেন এখন শুধু ম্যাচ জিতছে না, প্রতিপক্ষের আত্মবিশ্বাসও ভেঙে দিচ্ছে। দুর্বার হয়ে ওঠা এই স্পেনকে কার না ভয়!








