‘সবাই পারলে আমি কেন পারবো না’, এই জেদ থেকেই সমস্ত অপমান-অপবাদ-লাঞ্ছনাকে পাশ কাটিয়ে আজ এইচএসসি পরীক্ষার টেবিলে বসতে পেরেছে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজ মো. মারুফ উল্যাহ। কুড়িগ্রামের রাজারহাট ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে চলতি এইচএসসি সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। শ্রুতি লিখনে তাকে সহযোগিতা করছে তার ভাতিজি ছুম্মা আক্তার। তার এই পথচলাটা মসৃণ ছিল না, ছিল কণ্টকময়। চারদিক থেকে বাধা, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন আর প্রতিকূল পরিবেশ তাকে আটকাতে পারেনি। চোখে না দেখলেও মনের চোখ দিয়ে জ্ঞান আহরণে যেন বদ্ধপরিকর দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী হাফেজ মো. মারুফ উল্যাহ। তিনি প্রতিষ্ঠিত হয়ে প্রতিবন্ধীদের পাশে দাঁড়াতে চান। তিক্ত স্মৃতি রোমন্থন করে মারুফ জানায়, চোখে না দেখার কারণে আমাকে বাড়ির পাশের স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়। শিক্ষকরা মুখের ওপর বলেছেন, একে দিয়ে পড়াশোনা হবে না। তারপরও আমি থেমে থাকিনি। আমার কাছে পরীক্ষাটা মূল উদ্দেশ্য ছিল না, মূল উদ্দেশ্য ছিল জ্ঞান অর্জন করা। রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বুজরুক নূরপুর গ্রামের সন্তান হাফেজ মারুফ উল্যাহ। তিনি আলিম পরীক্ষার্থী। পরিবারে দু’ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছোট। বড় ভাই সেনাবাহিনীতে চাকরি করে। বাবা গোলজার হোসেন মারা গেছেন। মা শাহজাদি বেগম দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছেলেকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে লেখাপড়ার ওপর জোর দিয়েছিলেন। মায়ের উৎসাহে ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় আজ সে এতদূর আসতে পেরেছে।







