এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে শিক্ষার্থীবান্ধব পাঁচটি উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব উদ্যোগের কথা জানান।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, “চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া দেশের ২ হাজার ৫৮৩টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য উন্নতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।”

তিনি জানান, সাম্প্রতিক বৈরী আবহাওয়ার কারণে সৃষ্ট জটিলতা মোকাবিলায় সরকার সময়োপযোগী ও শিক্ষার্থীবান্ধব কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের জন্য নেওয়া পাঁচটি উদ্যোগ হলো: ১. বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর স্বার্থ বিবেচনায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া সারাদেশে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২. কোথাও যাতায়াতের সমস্যা বা জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত কিংবা পরীক্ষার সময় বৃদ্ধিসহ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

৩. প্রতিকূল আবহাওয়া বা অনিবার্য কারণে যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে অংশ নিতে পারেনি, তারা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিন্ন প্রশ্নপত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নির্ধারিত একই তারিখ ও সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। ৪. পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে দুটি ভুল প্রশ্ন থাকায় সব পরীক্ষার্থীকে ওই প্রশ্নের পূর্ণ নম্বর (ফুল মার্কস) দেওয়া হবে।

৫. পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র প্রণয়নে দায়ী ব্যক্তিদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কাছে এইচএসসি শুধু একটি পরীক্ষা নয়; এটি আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কারিগরদের ভবিষ্যৎ নির্মাণের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। তাই সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরীক্ষা পরিচালনায় কাজ করছে।”

তিনি আরো বলেন, “শিক্ষার্থীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং তাদের শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যেই সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করে যাচ্ছে।”