বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪৫ লাখ থেকে কমিয়ে ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, সাধারণ মানুষের জন্য দ্রুত ও সহজলভ্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ‘বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা’ (প্রি-ফাইলিং মেডিয়েশন) কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে।মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০২৬’-এর ধারা ২১ অনুযায়ী এই কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত পরিচালিত পাইলট কার্যক্রমের ইতিবাচক ফলাফল তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই চার মাসে বিভিন্ন আইনে গড়ে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ মামলা হ্রাস পেয়েছে।পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পারিবারিক আদালত আইনে আগে যেখানে ৩ হাজার ৫৫৯টি মামলা দায়ের হতো, মধ্যস্থতা কার্যক্রমের ফলে তা ৫১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৪৪টিতে দাঁড়িয়েছে। বণ্টনসংক্রান্ত দেওয়ানি মামলায় হ্রাসের হার ৬৭ শতাংশ। সবচেয়ে বড় সাফল্য দেখা গেছে যৌতুক নিরোধ আইনের মামলায়; যেখানে মামলা ৫ হাজার ৬০৫টি থেকে কমে ১ হাজার ৮১০টিতে নেমেছে (প্রায় ৬৮ শতাংশ হ্রাস)। এ ছাড়া স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি আইনের মামলায় ৮৮ শতাংশ এবং বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস পাওয়ার তথ্য জানান মন্ত্রী।আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশে বিচারকের স্বল্পতার বিপরীতে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই বিশাল মামলার চাপ বিচারব্যবস্থার ওপর একটি বড় বোঝা। তাই প্রচলিত বিচারব্যবস্থার পাশাপাশি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি এখন সময়ের দাবি।’তিনি আরও বলেন, ‘সরকার শুধু মামলাই কমাতে চায় না, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায়। দীর্ঘসূত্রতার কারণে সাধারণ মানুষ মানসিকভাবে ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। মামলা দায়েরের আগেই যদি বিরোধ নিষ্পত্তি করা যায়, তবে মানুষের ভোগান্তি অনেকটা কমে আসবে।’সেমিনারে জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে দেশের ১০টি জেলায় এই বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। জেলাগুলো হলো বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নড়াইল, যশোর, ফরিদপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল। বিশেষ করে কক্সবাজার জেলায় ১ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন থাকায় সেখানে দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানোর জন্য বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।মন্ত্রী বিচারকদের উদ্দেশে বলেন, যেসব মামলায় আপস-মীমাংসার সুযোগ রয়েছে, সেগুলো প্রাথমিক পর্যায়েই জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত এই সেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে গণমাধ্যমের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসেন বলেন, অতীতে অনেক প্রকল্প পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আটকে থাকলেও বর্তমান সরকারের এই উদ্যোগ বিচারব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে। এটি আদালতের ওপর চাপ কমাবে এবং সাধারণ মানুষের অর্থ ও সময় সাশ্রয় করবে।সেমিনারে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, বিভিন্ন পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং আইনজীবী সমিতির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ১০ জেলার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।
রাজনীতি
এক বছরে মামলা ৪৫ থেকে ২০ লাখে নামানোর লক্ষ্য

শেয়ার করুন







