গত বছর ২২০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি আয় করার তথ্য প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর বড় অংশ এসেছে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট নানা ব্যাবসা থেকে। পর্যালোচিত আর্থিক তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (১ জুলাই) এ সংবাদ প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দি ওয়াশিংটন পোস্ট।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে ট্রাম্পের ঘোষিত আয় প্রায় ১৬০ কোটি ডলার বেড়েছে। এই আয় বৃদ্ধির প্রধান উৎস ছিল ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত ব্যাবসা। আর্থিক বিবরণীতে ট্রাম্প ব্র্যান্ডের বাইবেল, হাতঘড়ি এবং বই বিক্রি থেকে আসা আয়ের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রকাশিত আর্থিক বিবরণীতে দেখা যায়, $TRUMP মেমে কয়েনসহ ট্রাম্প-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্রিপ্টো উদ্যোগ থেকে রয়্যালটি ও অন্যান্য আয় তার এ উপার্জনের অন্যতম বড় উৎসে পরিণত হয়েছে।

এছাড়া নিজের রিয়েল এস্টেট ব্যাবসা থেকেও উল্লেখযোগ্য আয়ের কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। এর মধ্যে রয়েছে ট্রাম্প ন্যাশনাল ডোরাল গলফ রিসোর্ট এবং মার-আ-লাগো সম্পত্তি। তবে, এসব ব্যাবসা থেকে প্রাপ্ত আয় তার মোট আয়ের তুলনায় অপেক্ষাকৃত বেশ কম।

বুধবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প তার সম্পদ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে শেয়ারবাজারের ঊর্ধ্বগতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আপনারা জানেন কেন আমি লাভ করছি? কারণ শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের এ পরিমাণ আয়ের সঙ্গে স্বার্থের সংঘাতের (কনফ্লিক্টস অব ইন্টারেস্ট) অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট কিংবা তার পরিবারের কেউ কখনো স্বার্থের সংঘাতে জড়াননি এবং ভবিষ্যতেও জড়াবেন না।

তবে নীতিশাস্ত্র বিশেষজ্ঞ এবং ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের দাবি, ট্রাম্পের ক্রিপ্টো ব্যাবসা সম্ভাব্য স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে। কারণ তার প্রশাসনই এই শিল্প খাতের জন্য ফেডারেল নীতি নির্ধারণ করছে।

সমালোচকদের মতে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে নেওয়া নির্বাহী পদক্ষেপগুলোও এ বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।

কেএম