ইউক্রেনের ধারাবাহিক দূরপাল্লার ড্রোন হামলা এবং ন্যাটোর সহায়তায় নতুন প্রজন্মের ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের কারণে প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করেছে রাশিয়া। রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর চারপাশে নতুন একটি আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় নির্মাণের তথ্য উঠে এসেছে স্যাটেলাইট চিত্রে। নতুন ভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে অন্তত পাঁচটি প্রতিরক্ষা অবস্থান। এসব স্থান দীর্ঘপাল্লার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মোতায়েনস্থল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
কয়েকটি স্থানে এর মধ্যে এস-৪০০-এর লঞ্চার এবং সংশ্লিষ্ট সামরিক যান মোতায়েন করা হয়েছে বলে স্যাটেলাইট চিত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন। এতে ধারণা করা হচ্ছে, নতুন প্রতিরক্ষা বলয়টি ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে অথবা খুব শিগগির পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে।
বহুস্তরবিশিষ্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
১৯৫০-এর দশক থেকেই মস্কো বহুস্তরবিশিষ্ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। সে সময় এস-২৫ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে বিশ্বের প্রথম শহর হিসেবে রাজধানীটি স্থায়ী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা পায়। বর্তমানে মস্কোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে এ-১৩৫ ও এ-২৩৫ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। নিচের স্তরে রয়েছে প্যান্টসির স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিমান প্রতিরক্ষা কামান।
নতুন এস-৪০০ মোতায়েনের ফলে বিশ্বের অন্যতম বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে এই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ড্রোন হামলার পর নিরাপত্তা জোরদার
রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, ইউক্রেনের অধিকাংশ ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে হামলার পাল্লা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে রাজধানীর প্রতিরক্ষা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, সামরিক স্থাপনা, শিল্পকারখানা ও কৌশলগত অবকাঠামোর নিরাপত্তায় অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। সম্প্রতি মস্কোর বিভিন্ন উঁচু ভবনের ছাদে প্যান্টসির-এসএমডি-ই স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হেলিকপ্টারের মাধ্যমে স্থাপনের ঘটনাও এ কৌশলের অংশ বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এস-৪০০ সরাসরি স্বল্পমূল্যের ড্রোন ভূপাতিত করার জন্য আদর্শ নয়। তবে এর শক্তিশালী রাডার শত্রু লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করতে পারে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, মস্কোর চারপাশে এস-৪০০ মোতায়েনের অন্যতম উদ্দেশ্য ভবিষ্যতে ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর এফ-৩৫ পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ও ভবিষ্যতের বি-২১ বোমারু বিমানের মতো উন্নত হুমকি মোকাবিলা করা।
এস-৪০০ ব্যবস্থা বিশেষভাবে স্টেলথ প্রযুক্তিসম্পন্ন লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও প্রতিহত করার জন্য তৈরি। এতে বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যের একাধিক রাডার ব্যবহার করা হয়, যা অত্যাধুনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমানকে তুলনামূলক দীর্ঘ দূরত্ব থেকেই শনাক্ত করতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, ২০০০ সালের পর থেকে রাশিয়া তাদের ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পে বড় বিনিয়োগ করেছে। এর আওতায় নতুন উৎপাদন কারখানা নির্মাণ এবং পুরোনো কারখানার আধুনিকায়ন করা হয়েছে।
কেএম








