সময়টা ২০২১ সাল। অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিটকয়েন বা ক্রিপ্টোকারেন্সি স্ক্যাম বা মহাবিপর্যয় বলে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু সময়ের পালাবদলে সেই ‘মহাবিপর্যয়’ই ট্রাম্পের পকেটে ঢুকিয়েছে ১০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ। দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরপরই এই মোটা অঙ্কের অর্থ আয় করেছেন ট্রাম্প। ২০২৫ সালের জন্য দেওয়া তার বাধ্যতামূলক আর্থিক বিবরণী থেকে এই তথ্য জানা গেছে। ৯২৭ পৃষ্ঠার ওই বিবরণীতে দেখা যায়, ট্রাম্প একটি ‘মিম কয়েন’ থেকে রয়্যালটি বাবদ ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করেছেন। অবশ্য দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েকদিন আগে এই কয়েনটি চালুর পর থেকে এর মূল্য বেশ পড়ে গেছে। রয়টার্স, বিবিসি।

‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিন্যান্সিয়াল’ নামের একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান থেকে তার ৫০ কোটি ডলারের বেশি আয় হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন ট্রাম্পের নিজের সন্তানরা এবং তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সন্তানরা। এছাড়াও আবাসন ব্যবসা ও ট্রাম্পের নামযুক্ত বিভিন্ন পণ্য বিক্রি থেকেও তার লাখ লাখ ডলার আয় হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউজ দাবি করেছে, প্রেসিডেন্ট পদের সুবিধা নিয়ে তিনি কোনো লাভ বা ব্যবসা করছেন না। ২০২৪ সালের আর্থিক বিবরণীতে ট্রাম্পের আয় ছিল ৬০ কোটি ডলারের বেশি। সেই তুলনায় তার সর্বশেষ বিবরণীর এই আয় আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। তবে হোয়াইট হাউজ বারবার জোর দিয়ে বলছে যে, ট্রাম্প তার ব্যবসাগুলো একটি ট্রাস্টের অধীনে রেখেছেন, যা তার ছেলেরা পরিচালনা করছেন। ফলে এখানে স্বার্থের কোনো সংঘাত নেই বলে তারা আবারও দাবি করেছে। হোয়াইট হাউজের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি অ্যানা কেলি বলেন, প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ‘বিশ্বের ক্রিপ্টো রাজধানী’ হিসাবে গড়ে তুলেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট বা তার পরিবার কখনই স্বার্থের সংঘাতে জড়াননি এবং ভবিষ্যতেও জড়াবেন না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের সব পদক্ষেপ আমেরিকান জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থেই নেওয়া হয়। যেসব তথাকথিত ‘সাংবাদিক’ এর উলটো প্রচার করার চেষ্টা করছেন, তারা মূলত ডেমোক্র্যাট এবং মূলধারার গণমাধ্যমের এক দশক ধরে চালানো সেই একই, পুরোনো ও মিথ্যা গল্পই নতুন করে ছড়াচ্ছেন।’ জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলের হোয়াইট হাউজের সাবেক প্রধান নীতিশাস্ত্র আইনজীবী রিচার্ড পেইন্টার বিবিসিকে বলেন, ট্রাম্পের ক্রিপ্টো থেকে ১০০ কোটি ডলার আয় করার বিষয়টি ‘অস্বাভাবিক’। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই এটি স্বার্থের সংঘাত।’ মঙ্গলবারের এই বিবরণী থেকে স্পষ্ট যে, ট্রাম্পের ক্রিপ্টো খাতের আয় তার আবাসন ব্যবসায়ের আয়কে অনেক পেছনে ফেলে দিয়েছে। ট্রাম্প তার মার-এ-লাগো ক্লাব থেকে প্রায় ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং ফ্লোরিডার ডোরাল গলফ ক্লাব থেকে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় করেছেন।

নিউ জার্সির বেডমিনস্টার, ফ্লোরিডার জুপিটার এবং স্কটল্যান্ডের টার্নবেরির গলফ ক্লাবগুলো থেকেও তিনি প্রতিটি থেকে ৩ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছেন। আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, ট্রাম্প অন্যান্য ব্যবসায়িক উদ্যোগ থেকেও লাখ লাখ ডলার আয় করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ট্রাম্প-ব্র্যান্ডের ঘড়ির রয়্যালটি থেকে ৪৭ লাখ ডলার। এর পাশাপাশি রয়েছে ট্রাম্প-ব্র্যান্ডের বাইবেল, সুগন্ধি এবং গিটার। ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পও বিবরণীতে তার ২০২৫ সালের আয়ের তালিকা দিয়েছেন। গত বছর মুক্তি পাওয়া তার জীবনীর ওপর ভিত্তি করে নির্মিত ডকুমেন্টারির ‘লাইসেন্স চুক্তি’ থেকে তিনি ১ কোটি ৭ লাখ ডলার আয় করেছেন। এছাড়াও অনলাইনে ডিজিটাল ছবি বিক্রির মাধ্যম এনএফটি বিক্রি করে তার আরও ৬০ লাখ ডলার আয় হয়েছে বলে তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।