দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেছেন, এক-দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন নয়, বরং দেশের সব স্কুলের শিক্ষার মান একযোগে বাড়াতে হবে। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা গেলে আলোকিত সমাজ ও দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা সম্ভব।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলের মেজবান হলে নিজের প্রতিষ্ঠিত ইস্ট ডেল্টা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ‘অ্যানুয়াল নাইট অ্যান্ড গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাঈদ আল নোমান বলেন, শিক্ষার দুটি প্রধান উদ্দেশ্য রয়েছে। একটি হলো আলোকিত সমাজ গঠন, অন্যটি এমন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, যার মাধ্যমে একজন মানুষ জীবিকা নির্বাহে সক্ষম হবে। তাই শিক্ষা হতে হবে সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী।

তিনি বলেন, দেশের অনেক বিদ্যালয়ে একটি শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী থাকায় কার্যকর পাঠদান ব্যাহত হয়। পেছনের সারির শিক্ষার্থীরা অনেক সময় শিক্ষকের বক্তব্য ঠিকভাবে শুনতে পারে না। এজন্য একটি শ্রেণিকক্ষে সর্বোচ্চ ২০ জন শিক্ষার্থী থাকা উচিত, যাতে প্রত্যেকের প্রতি আলাদা মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয়।

সংসদ সদস্য আরও বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার প্রায় ৬৫টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে বৈঠক করেছি। একটি বা দুটি স্কুল ভালো করলে বাংলাদেশ বদলে যাবে না। সামগ্রিকভাবে সব স্কুলের শিক্ষার মান উন্নত করতে হবে। এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের আরও আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।

jagonews24

তিনি বলেন, শিক্ষাকে যদি প্রকৃত অর্থে শিক্ষার লক্ষ্য অনুযায়ী পরিচালিত করা যায়, তাহলে বাংলাদেশেও আইনস্টাইনের মতো বিশ্বমানের প্রতিভা তৈরি করা সম্ভব। আলোকিত সমাজ ও দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে উঠলে কোনো দেশই পিছিয়ে থাকে না।

শিক্ষার্থীদের সুযোগের বৈষম্যের প্রসঙ্গ তুলে সাঈদ আল নোমান বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় প্ল্যাটফর্ম পাওয়ার ক্ষেত্রে যে বৈষম্য রয়েছে, তা দূর করতে হবে। সব শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে দেশের মানবসম্পদের সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটবে।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. নাজিম উদ্দিন, ট্রেজারার প্রফেসর সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী, ইস্ট ডেল্টা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের হেড অব স্কুল ফজিলাতুন্নেসা সচী এবং ভাইস প্রিন্সিপাল হুরাইন সাত্তারসহ শিক্ষা, প্রশাসন, ব্যবসা ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্য ও সৃজনশীল প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে গ্র্যাজুয়েশন সেরিমনি অনুষ্ঠিত হয়। প্রাক-প্রাথমিক থেকে প্রাথমিক এবং প্রাথমিক থেকে উচ্চতর শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সম্মাননা জানানো হয়। ট্যাসেল ঘোরানো, গ্র্যাজুয়েশন ক্যাপ নিক্ষেপ ও সনদ বিতরণের মধ্য দিয়ে তাদের অর্জন উদযাপন করা হয়।

পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নৃত্য, সংগীত, আবৃত্তি এবং ‘দ্য লায়ন অ্যান্ড দ্য মাউস’, ‘তোতাকাহিনী’ ও ‘মাইলস্টোন’ নাটকসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান ফজিলাতুন্নেসা সচী বলেন, এ আয়োজন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি সৃজনশীল বিকাশে বিদ্যালয়ের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

এমআরএএইচ/এমকেআর