বিশ্বকাপ এমন একটি মঞ্চ, যেখানে প্রতিটি গল্পই একদিন শেষ হয়। কেউ শিরোপা হাতে বিদায় নেয়, কেউ স্বপ্নভঙ্গের বেদনা নিয়ে। এমনও কেউ আছেন, যাদের বিদায় কোনো ট্রফির চেয়ে বড় হয়ে থাকে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো তেমনই একজন। রোনাল্ডোকে বিশ্বকাপ বিদায় জানিয়ে দিল। এই বিদায়টা আরও সুন্দর হতে পারত। অন্তত শেষ ম্যাচে যদি একটি গোল করতে পারতেন, সতীর্থরা তাকে সেই সুযোগটা করে দিতে পারতেন তাহলে মুহূর্তটি আরও স্মরণীয় হয়ে থাকত। এতবড় একজন কিংবদন্তির বিদায় আরও আবেগময় হওয়ারই দাবি রাখে।
রোনাল্ডোর ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। বিশ্বকাপের ট্রফি না থাকলেও তিনি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। পাঁচবার ব্যালন ডি’অর জয়, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, উয়েফা নেশন্স লিগ, ক্লাব ফুটবলের প্রায় সব বড় শিরোপা, গোলের পর গোল-সব মিলিয়ে তিনি নিজেই এক ইতিহাস। ফুটবল বড় নির্মম খেলা। এখানে সময় কাউকেই ছাড় দেয় না। বয়সের বাস্তবতা সবাইকে মেনে নিতে হয়। বয়সের কারণে তার সেই বিস্ফোরক গতি আর ছিল না। আধুনিক ফুটবল এখন গতির খেলা, তীব্রতার খেলা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার খেলা। এই জায়গায় বয়সের প্রভাব স্পষ্টভাবে চোখে পড়েছে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে খেলোয়াড়ের ভেতরে স্বাভাবিকভাবেই ইনজুরির ভয়ও কাজ করে। আগের মতো শতভাগ উজাড় করে দেওয়া যায় না। এর কিছুটা প্রভাব পর্তুগালের খেলাতেও পড়েছে। মাঠে তাকে কখনো হাল ছেড়ে দিতে দেখিনি। কখনো ক্লান্তির ছাপ দেখিনি। সব সময় সতীর্থদের উৎসাহ দিয়েছেন, সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। একজন নেতার সবচেয়ে বড় গুণই হলো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করা। সেই জায়গায় রোনাল্ডো সব সময় অনন্য। বিশ্বকাপ জিততে না পারাই হয়তো তার ক্যারিয়ারের একমাত্র অপূর্ণতা। তবে একটি ট্রফি কোনো খেলোয়াড়ের মহত্ত্ব নির্ধারণ করে না। আগামী ২০-৩০ বছর পরও যখন বিশ্বকাপ হবে, ফুটবল নিয়ে আলোচনা হবে, তখনো রোনাল্ডোর নাম উচ্চারিত হবে। তিনি শুধু একজন ফুটবলার নন, একটি যুগের নাম।
এবারের তিন স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা-সবাই শেষ ষোলোতে উঠেছিল। অনেকেই ভেবেছিলেন, অন্তত একটি দল অনেকদূর যাবে। কিন্তু কেউই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারেনি। এটাই ফুটবল। শুধু স্বাগতিক হলেই কেউ এগিয়ে থাকবে না। নাম, খ্যাতি কিংবা দর্শক সমর্থন মাঠে গোল করিয়ে দেয় না। পারফরম্যান্সই শেষ কথা। এ কারণেই ফুটবলকে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা বলা হয়। এখানে প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের প্রমাণ করতে হয়। আর বেলজিয়াম আমাকে মুগ্ধ করেছে। তারা এমন একটি দল, যাদের হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই দেশ বহু বিশ্বমানের ফুটবলার জন্ম দিয়েছে। রোমেলু লুকাকু সেই ধারারই একজন। এখনকার দলে ব্যক্তিগত দক্ষতা যেমন আছে, তেমনি আছে দলগত শৃঙ্খলা।








