হ্যালো গায়েজ, আমার নাম তাইফুন। আসিয়াছি উগান্ডা থেকে, যেন তোমাদের এই বাংলাদেশে নতুন নতুন ভ্লগ বানাতে পারি। আর আসিয়াই পেয়ে গেছি তুফানি টপিক—ছিনতাই। শুনিয়াছি, তোমাদের ঢাকায় নাকি ছিনতাই বাড়িয়া গিয়াছে। এতটাই বাড়িয়াছে যে তোমরা নাকি বাসা থেকে বাহির হইতেই ভয় পাইতেছ? কিন্তু তোমাদের তো বাসা থেকে বাহির হইতেই হবে। কারণ, তোমাদের নাকি গ্যাস নাই, কারেন্ট নাই, বাহিরে আসিয়াই তোমাদের খাদ্য গ্রহণ করিতে হইবে! আর তখনই তোমাদের ছিনতাইকারী ধরিবে, ঠিক সে সময়ই আমি তোমাদের শুট করিব। তোমাদের লাইভ ছিনতাইয়ের ঘটনা দেখিতে দুনিয়া পাগল হইয়া যাইবে, ইউ নো! তখন দেখিবে, তোমরা অনেক ফেমাস হইয়া যাইবে আর আমি হইয়া যাইব রিচ...
বেসরকারি চাকরিজীবীর পে স্কেল বিড়ম্বনাতেল কথায় প্রকাশডিয়ার ফ্রেন্ডস, এখন আমি খাড়ায়ে আছি মোহাম্মদপুরের চিপা গলিতে। খবর নিয়া জানিতে পারিয়াছি যে এই গলিতে দিনে–রাতে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়া থাকে। গতকাল বিকেলেও এখানে এক চাচার দুই ব্যাগ বাজার ছিনতাই হইয়াছে। ব্যাগে লাউ আর করলা থাকায় ছিনতাইকারী গায়েজরা নাকি নাখোশও হইয়াছিল; চাচাকে ধমকও দিয়াছে। চাচা কানে ধরিয়া জানাইয়াছে যে জীবন থাকিতে কখনো লাউ বা করলা কিনিবে না!
গায়েজ গায়েজ, দেখো, এক মহিলা উড়ন্ত দুরন্ত ব্যাটারিচালিত রিকশায় যাইতেছে, নিশ্চয়ই এখন ছিনতাইকারী আসিয়া তাহার ব্যাগ টানিয়া ধরিবে। এ রকম ঘটনা এখন তোমাদের দেশে তো প্রতিদিন হইতেছে... ব্যাগ টানিলেই মহিলা পড়িয়া যাইতে পারে, তাহাতে তাহার জীবনও যাইতে পারে। তা যাক, কিন্তু ছিনতাইকারীর ছিনতাই শুট হওয়ার আবশ্যকতা আছে...সেইটাই প্রধান লক্ষ্য। ওই তো, মহিলা যাইতেছে। দুইটা বকের ঠ্যাঙ সাইজের পোলা ভ্যাটভ্যাট করা মোটরসাইকেলে আসিয়া দাঁড়াইয়াছে। মুখোমুখি দুই পক্ষ। পোলা দুইটার এইবার ছুরি বাহির করিবার কথা। তা না হইলে চাপাতি। আরও বড় গ্রুপের হইলে অবশ্য পিস্তল বাহির করিবে। কিন্তু ও কী মনা...পোলা দুইটা তো মহিলার কাছে ঠিকানা জানিতে চাহিতেছে। ৫ নম্বর রোড কোথা? আরে উগান্ডীয় গাধা, ৫ নম্বর রোড ৬ নম্বরের আগে...৪ নম্বরের পরে...সামান্য কমন সেন্স এদের নাই দেখিয়া মেজাজ খারাপের চূড়ান্ত হইতেছে আমার। তবে গায়েজ, তাইফুন আছে যতক্ষণ, চিন্তা নাই ততক্ষণ। আমি তোমাদের লাইভ ছিনতাই দেখায়া ছাড়িব!
ডিয়ার ফ্রেন্ডস, আমি অন্য রাস্তায় আসিয়া হাজির হইয়াছি। অফিসফেরত ক্লান্ত লোক আসিয়া জুটিতেছে। ছিনতাইয়ের জন্য শুনিয়াছি ইহারা সেরা প্রাণী। বসের ঝাড়ি খাইয়া খাইয়া ইহারা কেঁচোর মতো হইয়া যায়। ছিনতাইকারীরা ইহাদের সামনে দাঁড়াইলেই দুই হাত ওপরে তুলিয়া দেয়। কিছু চাহিয়া উঠিবার আগেই মানিব্যাগ, মোবাইল, মাথা সব সম্প্রদান করিয়া দেয়। এই রকমই এক টাকমাথা অফিসফেরত মেটামরফোসিসকে দেখা যাইতেছে এবং গায়েজ দেখো, কী দারুণ ব্যাপার, তাহার পিছু নিয়াছে তিনখান কিশোর। তাহাদের চোখে সানগ্লাস, চুলে আজব রং...এইবার; এইবার ছিনতাই সংঘটিত হইবে। হইবেই। গায়েজ, আমার লাইভে চোখ রাখো। এখনই দারুণ ঘটনাটা ঘটিবে...
কীভাবে বুঝবেন, দেশে বিদ্যুতের সংকট নেইঅপ্রেমভিত্তিক চলচ্চিত্রকিন্তু এ কী, কিশোর তিনটার মধ্যে যেইটা সবচাইতে পিচ্চি, যাহার বড় হইয়া পিচ্চি অমুক পিচ্চি ধমুক হইবার ব্যাপক সম্ভাবনা ছিল, সে-ই কিনা অফিসফেরতের সামনে হুড়মুড় করিয়া পড়িয়া গেল। তাহার পা জড়াইয়া ধরিল! আর কী তাহার কান্নাকাটি! হায় রে, অফিসফেরত এই বান্দার ছোট কন্যাটির প্রেমে পড়িয়াছে সে পিচ্চি অমুক...হবু শ্বশুরকে ইমপ্রেস করিতে বেচারা টেলিভিশন হইয়া যাইতেছে!
না গায়েজ, আমি প্রচুর হতাশ! উগান্ডায় এর চাইতে কম সময়ের মধ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়া যায়। যে ধরনের আওয়াজ পাইয়া আমি আসিয়াছিলাম, আমার পুরাটাই ব্যাপক লস। মনে হইতেছে যে আমি চিৎকার করিয়া...আরে আরে আপনারা কারা? অ্যা? আপনারা ছুরি দেখাইতেছেন ক্যান আমারে?...আ–আমার কাছে দেওয়ার মতো কিছু নাই। আরে বুঝিতে কেন পারিতেছেন না, আমি সুদূর উগান্ডা থেকে আসিয়াছি... প্লিজ, আমার ফোন লইবেন না... গায়েজ গায়েজ আমারে বাঁচাও, আমি ছিনতাইয়ের কবলে পড়িয়াছি...হ্যালো গায়েজ...
সবজান্তা সমীপেষুরসচিঠিবিয়ে না করার ১০ উপকারিতা...১টা ফাউছিনতাই! Be পজিটিভ উৎসুক জনগণ নিষিদ্ধ জনতাঅটোরিকশা লইয়া সরকার কী করবে?ইস্যু আসে ইস্যু যায়...






