একাত্তরের ভূমিকার জন্য বাংলাদেশের কাছে জামায়াতকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, একাত্তর সালের ভূমিকার জন্য আপনারা একবারও ক্ষমা প্রার্থনা করলেন না। বাংলাদেশ সম্পর্কে আপনাদের অবস্থান পরিষ্কার করে আমাদেরকে, বাংলাদেশকে জানানো উচিত। এটা স্বীকার করে নিলে রাজনীতি করা সহজ হয়ে যাবে। রোববার ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের বন্ধুরা বিভিন্নভাবে আমাদের ইগনোর করার চেষ্টা করছেন। আমাদের বিভিন্নভাবে ক্ষুব্ধ করার চেষ্টা করছেন। আমি মনে করি, এই সময়টা সঠিক নয়। নিজেদের দিকেও আপনাদের ফিরে তাকানো দরকার। একাত্তর সম্পর্কে আপনারা পরিষ্কার করে বলেন।
এ সময় বিরোধী দল থেকে কিছু একটা বলা হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, আপনারা পরিষ্কার করে বলেন না। আমি আজ পর্যন্ত শুনিনি। কেউ শুনেনি।
এনসিপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, তারা এমন একটা দলের সঙ্গে জোট করেছে যারা, বাংলাদেশের স্বাধীনতাতে বিশ্বাস করে নাই। আমি আশা করব, তারা তাদের রাজনীতিটা আরও পরিষ্কার করে সামনের দিকে নিয়ে আসবে। এ নবীন রাজনীতিবিদদের অনেক ভবিষ্যৎ আছে। এমন কোনো স্টিগমা নিয়ে তারা যেন পলিটিক্সে না থাকে, যারা বাংলাদেশের অস্তিত্বের প্রশ্ন অস্বীকার করে চলেছে। এর আগে বাজেট আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশে করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ১০০ বছরের ইতিহাস থাকার দাবি সঠিক নয়। দলটির ইতিহাস এখনো ১০০ বছর পূর্ণ হয়নি। শনিবার জামায়াতে ইসলামীর এমপি শাহজাহান চৌধুরী বাজেট আলোচনায় বলেছিলেন, জামায়াতে ইসলামীকে জানতে হলে ১০০ বছরের ইতিহাস জানতে হবে। ওই বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল এবং সে সময় দলের দুই নেতা পাকিস্তান সরকারের মন্ত্রিসভায় ছিলেন। এসব বিষয় ইতিহাসের অংশ এবং আইনগতভাবেও প্রতিষ্ঠিত। মন্ত্রী আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক নির্বাচনি ইশতেহারে কোথাও শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্র, ইসলামি বিচারব্যবস্থা, ইসলামি অর্থনীতি বা শরিয়া আইন বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার নেই। তারা নিজেদের ইসলামি দল হিসাবে দাবি করলেও তাদের ঘোষিত নীতিতে সে প্রতিফলন নেই।
এদিকে মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের পর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন এবং পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) সংশোধন আইন সংসদে তোলেন স্বাস্থ্য ও শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় আইনের কপি আগে সংসদে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের সংসদ-সদস্য নাজিবুর রহমান। তখন স্পিকার বলেন, ২৩ জুন কপি দেওয়া হয়েছে। পরে আইনের সংশোধনী দুটি বিশেষ কমিটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। এ নিয়ে সংসদে হইচই করেন বিরোধীদলীয় সদস্যরা। একপর্যায়ে তারা ওয়াকআউট করেন। এরপর তারা সংসদের বাইরে গিয়ে ওয়াকআউটের কারণ সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।








