কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ আরও সহজ ও স্বাভাবিক করতে বড় পরিবর্তন আনছে ওপেনএআই। চ্যাটজিপিটির ভয়েস ফিচারে আসছে নতুন প্রযুক্তি, যেখানে এআই শুধু প্রশ্নের উত্তর দেবে না, বরং মানুষের মতো কথোপকথনের ধরন বুঝে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবে।

ওপেনএআই তাদের অ্যাডভান্সড ভয়েজ মোডে নতুন প্রজন্মের ভয়েস মডেল যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন এই প্রযুক্তির ফলে চ্যাটজিপিটির কণ্ঠ আরও দ্রুত, স্বাভাবিক এবং আবেগপূর্ণ হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

কথার মাঝেও এআইকে থামানো যাবে

বর্তমান ভয়েস চ্যাট ব্যবস্থায় ব্যবহারকারী কথা শেষ করার পর এআই সাধারণত উত্তর দেওয়া শুরু করে। তবে নতুন ভয়েস মডেলের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, কথোপকথন হবে অনেকটা মানুষের মতো। ব্যবহারকারী কথা বলার মাঝেই প্রশ্ন যোগ করতে পারবেন বা আগের কথার ব্যাখ্যা চাইতে পারবেন। এআই সেই পরিবর্তন বুঝে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাবে। ফলে কথোপকথন আর যান্ত্রিক মনে হবে না, বরং একজন মানুষের সঙ্গে কথা বলার মতো অভিজ্ঞতা তৈরি হবে।

এক ধাপ এগিয়ে নতুন ভয়েস প্রযুক্তি

আগের ভয়েস চ্যাট ব্যবস্থায় কয়েকটি ধাপে কাজ হতো। প্রথমে মানুষের কণ্ঠকে টেক্সটে রূপান্তর করা হতো, এরপর এআই সেই লেখা বিশ্লেষণ করে উত্তর তৈরি করত এবং শেষে সেটিকে আবার কণ্ঠে রূপ দেওয়া হতো। নতুন প্রজন্মের ভয়েস মডেলে এই পুরো প্রক্রিয়াটি আরও সমন্বিতভাবে কাজ করবে। ফলে উত্তর দেওয়ার সময় কমবে এবং এআইয়ের কণ্ঠ আরও স্বাভাবিক শোনাবে।

কারা পাবেন নতুন সুবিধা?

ওপেনএআই জানিয়েছে, চ্যাটজিপিটির পেইড ব্যবহারকারীরা নতুন উন্নত ভয়েস মডেলের সুবিধা আগে পাবেন। চ্যাটজিপিটি প্লাস ও প্রো ব্যবহারকারীদের জন্য থাকবে উন্নত সংস্করণ, আর বিনামূল্যের ব্যবহারকারীদের জন্য থাকবে হালকা সংস্করণের ভয়েস সুবিধা। তবে ধাপে ধাপে আরও বেশি ব্যবহারকারীর কাছে এই প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।

জটিল প্রশ্ন বুঝতেও আরও দক্ষ হবে এআই

নতুন ভয়েস মডেলের আরেকটি বড় সুবিধা হলো, এটি আগের তুলনায় জটিল বিষয় ভালোভাবে বুঝতে পারবে। সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্লেষণ, তথ্য খোঁজা এবং বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সমাধানেও এটি আরও কার্যকর হবে। এর ফলে চ্যাটজিপিটি শুধু একটি ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট নয়, বরং একজন ব্যক্তিগত এআই সহকারীর মতো কাজ করতে পারবে বলে মনে করছে ওপেনএআই।

ভাষা অনুবাদেও আসছে উন্নতি

নতুন ভয়েস প্রযুক্তিতে লাইভ অনুবাদ সুবিধাও আরও উন্নত করার কথা জানিয়েছে ওপেনএআই। এর মাধ্যমে ভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে তাৎক্ষণিক কথোপকথন আরও সহজ হবে। তবে সংস্থাটি স্বীকার করেছে, সব ভাষার উচ্চারণ ও স্থানীয় টোন এখনও পুরোপুরি নিখুঁত নয়। কিছু ভাষায় এআইয়ের কণ্ঠে কৃত্রিমতার অনুভূতি থাকতে পারে। ভবিষ্যতে এই বিষয়গুলো আরও উন্নত করার লক্ষ্য রয়েছে।

ভবিষ্যতের কম্পিউটার ব্যবহারের মাধ্যম হবে ভয়েস?

ওপেনএআই মনে করছে, ভবিষ্যতে মানুষের সঙ্গে প্রযুক্তির যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হতে পারে কণ্ঠস্বর। কীবোর্ড বা টাচস্ক্রিনের পাশাপাশি মানুষ সরাসরি কথা বলেই এআই পরিচালনা করবে। তবে এই ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতাও বাড়ছে। অ্যাপল, অ্যামাজন-সহ বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও ভয়েসভিত্তিক এআই প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত ভয়েস এআই শুধু স্মার্টফোন ব্যবহারের ধরনই বদলাবে না, শিক্ষা, ব্যবসা, অনুবাদ, গ্রাহকসেবা এবং দৈনন্দিন কাজেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। চ্যাটজিপিটির নতুন ভয়েস আপডেট সেই ভবিষ্যতের দিকেই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মানুষের ভাষা বুঝে মানুষের মতো প্রতিক্রিয়া জানাতে পারলে এআই ও মানুষের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠবে।

কেএসকে